বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রার্থীদের মধ্যে দোলোয়ার হোসেন ব্যাপারী ভোজেশ্বর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক ব্যাপারীর চাচাতো ভাই। আর শহীদুল ইসলাম সিকদার নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাবা আলী আহম্মদ সিকদার সাবেক চেয়ারম্যান। স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে।

গতকাল বেলা সোয়া দুইটার দিকে দুলুখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা করেন দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকেরা। তাঁরা ককটেল–বোমা হামলা ও গুলি করে ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। এরপর ভোট কেন্দ্র দখল করে তিনটি ভোট বাক্স, তিন হাজার ব্যালট ও নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছিনতাই করে নিয়ে যান। এরপর বাহির থেকে দরজা আটকে দিয়ে ভোট কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেন। যমুনা টিভির সাংবাদিক কাজী মনিরুজ্জামান ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক শরীফুল আলমের মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এ সময়।

এ সময় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও ভোটাররা ভোটকক্ষে আটকা পড়েন। তাঁরা দরজা ভেঙ্গে সেখান থেকে প্রাণে বাঁচেন। সেখানে উপস্থিত ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক এমরুল হাসান, যমুনা টিভির সাংবাদিক মনিরুজ্জামান, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক শরীফুল আলম, প্রথম আলোর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ ও মানবাধিকার খবরের সাংবাদিক হেমন্ত দাস প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে আটকা পড়েন। তাঁদের কক্ষে ককটেল বোমার হামলা ও গুলি করা হয়।

সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে গুলি, বোমা হামলা ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে ছাত্র ইউনিয়ন, শরীয়তপুর প্রেসক্লাব, শরীয়তপুর ইলেকট্রনিকস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, হিন্দু মহাজোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

কালের কণ্ঠ পত্রিকার শরীয়তপুর প্রতিনিধি শরীফুল আলম বাদী হয়ে গতকাল রাতে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামী করা হয়েছে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দোলোয়ার হোসেন ব্যাপারী, তাঁর জামাতা বিল্লাল চৌকিদার, রতন ছৈয়াল, ভোজেশ্বর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক ব্যাপারীর ছেলে ইমরান ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী, বিপ্লব ব্যাপারীসহ ১৫ ব্যক্তিকে। গতকাল রাত থেকে আসামীরা আত্মগোপনে। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভোট কেন্দ্রে হামলা, ভোটের বাক্স, ব্যালট ছিনতাই ও অগ্নিসংযোগের পর ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। ওই কেন্দ্রের ভোট ছাড়াই বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন শহীদুল হক সিকদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে ভোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে কেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছেন দেলোয়ার ব্যাপারী। তাঁরা দীর্ঘদিন থেকেই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। পুলিশের কাছে অনুরোধ থাকবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় নেওয়ার।’

শরীফুল আলম বলেন, ‘আমরা সংবাদকর্মীরা তো কারোর প্রতিপক্ষ নই। তাহলে কেন পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের জানমালের ওপর হামলা করা হবে? প্রশাসনের প্রতি আহ্বান দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হোক।’

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনী শংকর কর বলেন, কেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। আর সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ১৫ ব্যক্তিকে আসামী করে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। গত রাতেই পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন