বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই সব যানবাহন শরীয়তপুরের আলুর বাজার ও চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট দিয়ে মেঘনা নদী পারাপার হয়। ওই ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপারের জন্য ছয়টি ফেরি আছে। প্রতিটি ফেরি ২৪ ঘণ্টায় ৬টি হতে ৭টি ট্রিপ ছেড়ে যায় আলুর বাজার ফেরিঘাট থেকে। এতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৫০টি যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার থেকে পণ্যবাহী গাড়ির পাশাপাশি যাত্রীবাহী গাড়ি ও কোরবানির পশুবাহী গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে ঘাটে। ফলে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত পারাপার না হতে পেরে আলুর বাজার ফেরিঘাটে অন্তত দেড় হাজার বিভিন্ন ধরনের গাড়ি আটকা পড়েছে। ওই সড়কের ভেদরগঞ্জের খায়েরপট্টি থেকে আলুর বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরা থেকে নোয়াখালীতে গরু নিয়ে যাচ্ছেন সাহাদৎ জমাদ্দার নামের এক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি আলুর বাজার ফেরিঘাট থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সড়কে আটকা পড়েছেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত তিনি ফেরিতে উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘ঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। ভয়াবহ যানজট। দুই দিন অপেক্ষা করছি, ফেরিতে উঠতে পারছি না। ট্রাকবোঝাই গরু। তীব্র তাপদাহে গরুগুলোর অনেক কষ্ট হচ্ছে। জানি না কখন ফেরি পার হতে পারব। এভাবে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।’

যশোর থেকে আটটি গরু নিয়ে ফেনীতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী তানভির হাসান। শুক্রবার সকাল থেকে তিনি ঘাটের চার কিলোমিটার দূরে অপেক্ষা করছেন। ২৪ ঘণ্টায় তিনি তিন কিলোমিটার সামনে এগোতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘গরমে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। একটি গরু মারা গেছে। আমাদের ট্রাক যেখানে রয়েছে, তাঁর থেকে ঘাটের দূরত্ব এক কিলোমিটার। কখন ফেরির সিরিয়াল পাব, আল্লাহই জানেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে লোকসানে পড়ে যাব।’
বরিশালের গৌরনদী থেকে ব্যবসায়িক কাজে চট্রগ্রাম যাচ্ছেন সামছুদ্দিন খলিফা। তিনি শুক্রবার বিকেলে আলুর বাজার ফেরিঘাটে এসেছেন। ফেরির সিরিয়াল না পাওয়ায় তাঁকে বহনকারী গাড়ি ঘাটে আটকা পড়েছে। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে ব্যবসায়িক কাজ আটকে ছিল। গাড়ি চলাচল শুরু হলে ঘর থেকে বের হই। এভাবে ফেরিঘাটে আটকে থাকতে হবে ভাবতে পারিনি।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিটিসি) আলুর বাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুল মোমেন প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার থেকে ঘাটে গাড়ির চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার তা যানজটে পরিণত হয়। এখনো ঘাটে এক হাজারের বেশি গাড়ি আটকা আছে। যাত্রীবাহী ও গবাদি পশুবাহী গাড়ি আগে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ চাপ সামলানোর জন্য আরেকটি নতুন ফেরি আনা হবে। আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যেই ঘাটের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন