default-image

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবটি চলছে দুজন কর্মী দিয়ে। ওই ল্যাবে ৮টি পদের মধ্যে ৬টি পদই শূন্য রয়েছে। এ কারণে করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। আর জনবল না থাকায় সাধারণ প্যাথলজির কাজও হচ্ছে ওই ল্যাবে। এতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যার। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যে প্যাথলজি ল্যাব রয়েছে, তাতে জুনিয়র কনসালট্যান্টের (প্যাথলজি) পদ শূন্য রয়েছে। প্যাথলজিস্টের একটি পদ। ১০ বছর ধরে এই দুই পদে কেউ কর্মরত নেই। ল্যাব অ্যাটেনডেন্টের দুই পদের একজন নেই দীর্ঘ দিন থেকে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের চারটি পদের ৩টি শূন্য ১২ বছর ধরে। এর মধ্যে এই পদে গত বছর জুনে দুজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পদায়ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু তাঁরা দুজন এখানে যোগদান করলেও পরে প্রেষণে নরসিংদী সদর হাসপাতালে কাজ করছেন।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে কর্মরত আসলাম উদ্দিন। তিনি একাই দীর্ঘ দিন ধরে সদর হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবটি চালাচ্ছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন প্রতিদিন করোনার নমুনা দিতে পারছেন ৫০-৬০ জন। অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে পারছেন ২৫-৩০ জন। এ ছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষা ৪-৫ জন ও সাধারণ প্যাথলজি নমুনা নেওয়া হচ্ছে ১৫-২০ জনের।

অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে পারছেন ২৫-৩০ জন। এ ছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষা ৪-৫ জন ও সাধারণ প্যাথলজি নমুনা নেওয়া হচ্ছে ১৫-২০ জনের।
বিজ্ঞাপন
জনবল–সংকটের কথা বারবার অধিদপ্তরকে জানানো হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এমন অবস্থায় কর্মরত কর্মীদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ, শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জন

আসলাম উদ্দিন আরও বলেন, ‘হাসপাতালে প্রতিদিন অনেক রোগীর ভিড়। আমরা দুজনে এত রোগীর পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছি। কাজের চাপ বাড়লে অন্য বিভাগের এমএলএসরা সহায়তা করেন। এভাবে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চলতে পারে না।’

সম্প্রতি সদর উপজেলার দাদপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেন পেটে ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। প্যাথলজি ল্যাবে রক্ত পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। তিনি বলেন, ল্যাবে প্রবেশ করলে কক্ষের শুরুর দিকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই কক্ষেই অন্যান্য প্যাথলজির রক্ত নেওয়া হয়। এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। করোনা ও অন্য পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ আলাদা জনবল দিয়ে আলাদা কক্ষে নেওয়া প্রয়োজন। এতে রোগীরা ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনীর আহমদ খান পদায়ন হওয়া দুজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের প্রেষণ বাতিল করার জন্য গত ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেন। তবে ওই বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। মুনীর আহমদ খান বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে বেশি। এমন পরিস্থিতিতে দুজন কর্মী দিয়ে একটা ল্যাব কীভাবে চালানো যায়? বিষয়টি অনেকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে কোনো প্রতিকার হয়নি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, জনবল–সংকটের কথা বারবার অধিদপ্তরকে জানানো হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এমন অবস্থায় কর্মরত কর্মীদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন