উপাচার্যের কাছে পাঠানো আবেদনে বলা হয়, অর্থনীতি বিভাগের ৬৬ আসনের মধ্যে ৪০টি আসন ছিল বিজ্ঞান বিভাগ পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা। সে ক্ষেত্রে শর্ত ছিল, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। অর্থাৎ গণিতে ৮ নম্বর পেতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা কমিটি কিছু আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করেন। কমিটির সভাপতি গণমাধ্যমে জানান, অর্থনীতি বিভাগে ভর্তির জন্য শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থী না পাওয়ায় তাঁরা কার্যক্রম শেষ করেছেন। অথচ অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা সেই শর্ত পূরণ করতে পেরেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনকারী এক ছাত্রী প্রথম আলোকে বলেন, গণিতে ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ নম্বর পেয়েও ভর্তি হতে না পেরে এক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি ওই শিক্ষার্থীকে জানান, কেবল গণিতে নয়, ভর্তি পরীক্ষায়ও মোট নম্বরের ৪০ শতাংশ নম্বর না পেলে কাউকেই ভর্তি করা যাবে না। যাঁরা ভর্তি পরীক্ষার পাশাপাশি গণিতেও ৪০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন, কেবল তাঁদেরই ভর্তি করা হয়েছে। অথচ ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলারে কোথাও ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে, এমন কোনো শর্তের উল্লেখ ছিল না।

ওই ছাত্রী আরও বলেন, ‘আমি ভর্তি পরীক্ষায় ৩৯ শতাংশ নম্বর পেলেও গণিতে ৪০ শতাংশ নম্বর পেয়েছি। শর্ত অনুযায়ী আমাকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এটা অবিচার।’

এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুশতাক আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে কমিটির সদস্যসচিব চৌধুরী আবদুল্লাহ আল হোসাইনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আট শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিষয়টি জানেন না বলে জানান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নীতিমালা ও শর্ত পূরণ করেও কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেননি, এমন তথ্য সঠিক নয়।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল হোসাইনী বলেন, বি ইউনিটে বিজ্ঞান থেকে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে ৪০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার একটা শর্ত ছিল। এর পাশাপাশি অর্থনীতি বিভাগও ফ্যাকাল্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিলে আরেকটি নীতিমালা অনুমোদন করিয়েছিল। সেটি হচ্ছে ওই বিভাগে ভর্তি হতে হলে গুচ্ছ পরীক্ষায়ও ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। সব শর্ত মেনে যেসব আসনে শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে, সেভাবেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন