শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে শহীদ রীমু সরণি অন্যতম। সাতক্ষীরা পোস্ট অফিস মোড় থেকে পুরোনো সাতক্ষীরা হাটেরমোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার লম্বা সড়কটি। পোস্ট অফিস, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, জেলা সমবায় কার্যালয়, উপজেলা সমবায় কার্যালয়, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, পল্লিমঙ্গল কলেজ অ্যান্ড স্কুল, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেলার মাঠসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন স্কুল ও কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই সড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন।

গত শুক্রবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ রীমু সরণির বেশির ভাগ জায়গা থেকে পিচ, খোয়া উঠে গেছে। যানবাহন চলে হেলেদুলে। হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

শহীদ রীমু সরণির পাশে থাকেন মঞ্জুর হাসান। তিনি বলেন, বছর দুয়েক ধরে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। সড়কের এমন কোনো স্থান নেই, ছোট-বড় গর্ত নেই। গাড়িতে চলাচল করলে শরীরে ব্যথা হয়। এমনকি মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সড়ক দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে হলেও গর্তে পা পড়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

এ সড়কের বাসিন্দা শিক্ষার্থী বিলকিস বানু বলেন, সকালে উঠেই প্রাইভেট পড়তে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের যে খারাপ অবস্থা, তাতে হেঁটে চলা যায় না। আর ইজিবাইক কিংবা ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে যেতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ১০ মিনিটের পথ লাগে ৩০ মিনিট।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আমনুল্লাহ আল হাদি জানান, কলেজে ১৭ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করেন। শহীদ রীমু সরণি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ কলেজে আসে। দুই বছর সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু মেরামতের উদ্যোগে নেওয়া হচ্ছে না।

এ সম্পর্কে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, শহীদ রীমু সরণি নতুন করে নির্মাণ করার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কবে ওই প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে, তা তিনি বলতে পারেননি।