default-image

কামাল হোসেন (৩৫) প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকা ও গাজীপুরে কুলফি বিক্রি করেন। এই আয় দিয়েই গ্রামে বাবা-মা, স্ত্রীসহ তিন সন্তানের সংসার চালাতেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছেন। গ্রামেও কোনো কাজ করতে পারছেন না। আয় না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে কামাল হোসেনের বাড়ি। গতকাল শুক্রবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশে পতিত জমি কোদাল দিয়ে মাটি কাটছেন। কামাল বললেন, এখানে সবজি চাষ করবেন। এতে যদি কিছুটা সবজির চাহিদা পূরণ হয়।

বিজ্ঞাপন

কামাল হোসেনের মতো এই গ্রামের আরও আছেন, যাঁরা ঢাকায় থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেই টাকায় গ্রামে সংসার চলত। কিন্তু করোনাকালের এই লকডাউনের তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সবারই এখন দুরবস্থা।

বাড়ির আঙিনার সামনে সবুজ ধানখেতের পাশে বাঁশের মাচায় বসে কথা হচ্ছিল কামাল হোসেনের সঙ্গে। কামাল বলেন, গাজীপুরে তিনিসহ কয়েকজন কুলফি তৈরি করতেন। সেই কুলফি চলতি পথে পরিবহনে বিক্রি করতেন। আয় ভালোই হতো। বাড়িতে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। আগে বাড়িতে আসতে পারতেন না বলে মন খারাপ হতো। এখন বাড়িতে এসেও তিনি ভালো নেই। তাঁর মুখে হাসি নেই। কেন, জানতে চাইলে কামাল বললেন, লকডাউন কর্মঠ হাতকে গুটিয়ে দিয়েছে। ঢাকা ও গাজীপুরে কুলফি বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। গেল বছর লকডাউনে চলে এসেছিলেন। লকডাউন উঠে গেলে আবার গাজীপুরে ফিরে যান। কিন্তু এই বছর এপ্রিলের শুরুর দিকে আবার সেই লকডাউন।

লকডাইনে বাড়ি ফিরে বর্তমানে বেকার জীবন কামালের। তিনি বলেন, কুলফি বিক্রি করার কারণে মাঠে কাজ করার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ কারণে কৃষিকাজে তাঁকে নেন না অনেকে। এই অনিশ্চয়তায় চেয়ে আছেন কবে লকডাউন খুলবে। আবার ফিরবেন আগের কাজে।

কামালের সংসারে বাবা-মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তাঁর আশা, করোনাকাল দূর হবে, দেশ হবে স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন