বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইলিয়াস আহমেদ তৎকালীন ইপিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সিপাহি পদে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই দেশের টানে ছুটে গিয়েছিলেন যুদ্ধে অংশ নিতে। যুদ্ধে তাঁর শহীদ হওয়ার খবরটি স্বাধীনতার কয়েক বছর পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। কিন্তু কবে কোথায় কীভাবে তিনি শহীদ হয়েছিলেন, সে তথ্য কেউই পাননি। অবশেষে গত নভেম্বরে ইলিয়াস আহমেদের ছেলে শফিকুল আলম সাঁথিয়া উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে লেখা একটি বই হাতে পান। বইটি লিখেছিলেন সাঁথিয়া উপজেলার মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন। সেই বই থেকে ছেলে শফিকুল আলম জানতে পারেন, ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল তাঁর বাবা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে শহীদ হয়েছেন। তবে সেই যুদ্ধে শুধু তিনিই নন, ইপিআরের মোট ১৭ জন সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন গ্রামবাসীও শহীদ হয়েছিলেন। খবর পেয়েই শফিকুল আলম ছুটে গিয়েছিলেন বাবার যুদ্ধক্ষেত্র ও কবর দেখতে। এ নিয়ে ১৭ ডিসেম্বর প্রথম আলোতে ‘৫০ বছর পর শহীদ বাবার কবরের সন্ধান’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

গত নভেম্বরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি বই পড়ে শহীদ হওয়ার ৫০ বছর পর ইলিয়াস আহমেদের কবর ও যুদ্ধক্ষেত্রের সন্ধান পান তাঁর ছেলে শফিকুল আলম।

যুদ্ধক্ষেত্র ও কবরের সন্ধান পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এ বিজয়ের মাসেই সবাই মিলে কবর দেখতে যাবেন। আজ বেলা দুইটার দিকে সাঁথিয়ার শহীদনগরে এসেছিলেন শহীদ ইলিয়াস আহমেদের তিন সন্তান, নাতি-নাতনিসহ অন্য স্বজনেরা। তাঁরা যুদ্ধের পর ইপিআর সদস্যদের যেখানে গণকবর দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কবর জিয়ারত করেন। এ ছাড়া সেদিনের সেই যুদ্ধক্ষেত্রও তাঁরা ঘুরে দেখেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘সাঁথিয়ার শহীদনগরের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক হয়ে গেছে। ৫০ বছর পর বাবার কবরের সন্ধান পেয়ে আমরা ভাইবোনসহ আত্মীয়রা ছুটে এসেছি। স্বাধীনতা ও বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ দিনগুলোতে এখন থেকে আমরা এখানে নিয়মিত আসব।’

শফিকুল আলমের ছেলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইউসুফ বিন শফিক বলে, ‘আমার দাদা বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়েছেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর শহীদ হওয়ার কথা শুনে আসছিলাম। আজ সবাই মিলে তাঁর কবর ও শহীদ হওয়ার জায়গাটি দেখলাম। দাদার জন্য আমার অনেক গর্ব হয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন