শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেলে আবার নমুনা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে নেওয়া হচ্ছে বায়োসেপ্টিক কেবিনেট। মঙ্গলবার সকালে তোলা ছবি।
প্রথম আলো

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা নমুনার পরীক্ষার পিসিআর ল্যাবরেটরিতে নতুন বায়োসেপ্টিক কেবিনেট সরবরাহ করা হয়েছে। এটি স্থাপন হয়ে গেলে দুই দিনের মধ্যে আবার এ হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের বলেন, বায়োসেপ্টিক কেবিনেটে ল্যামিনার ফ্লু যন্ত্রটি বিকল হওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলামের উদ্যোগে বিজিএমইএর সহযোগিতায় সকালে যন্ত্রটি এ হাসপাতালে পৌঁছায়।

আবদুল কাদের আরও বলেন, ‘একটি পিসিআর মেশিনের তিনটি পার্ট থাকে। এর মধ্যে গত মাসের শেষের দিকে বায়োসেপ্টিক কেবিনেটে ল্যামিনার ফ্লু যন্ত্রটিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হলে সেখান থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ২৭ জুন ল্যাব পরিদর্শন করে বায়োসেপ্টিক কেবিনেট পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। পরদিন ২৮ জুন নমুনা পরীক্ষার কাজ চলাকালে মেশিনটি পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে। বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে কোনো বায়োসেপ্টিক কেবিনেটর নেই। ওই মেশিন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ওই মেশিন এখন জাহাজে আছে। তাই আগামী আগস্ট মাসের আগে মেশিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল।’

গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুরে প্রতিদিন গড়ে ৪০০-এর মতো নমুনা পরীক্ষা হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেশিন নষ্ট হওয়ায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ল্যাব ও ঢাকায় পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার একটি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা বন্ধ থাকা মানুষের জন্য দুর্ভোগের বিষয়। তা ছাড়া সরকারের কাছে বর্তমানে যন্ত্রটি মজুত নেই। বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রটি দেশে আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। এ সময়ে জেলার করোনা পরীক্ষায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। তাই যন্ত্রটি মেডিকেল কলেজকে সরবরাহের জন্য বিজিএমইএয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ তার অনুরোধে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে হাসপাতালে একটি পৌঁছে দিয়েছে। এখন যন্ত্রটি স্থাপনের কাছ চলছে।

এস এম তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আশা করছি আগামী দুই দিনের মধ্যে এই হাসপাতালে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’