default-image

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় হওয়া একটি মামলার প্রধান আসামি শহিদুল ইসলামকে (৫০) ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। আজ রোববার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের এই আবেদন করে পুলিশ। তবে আজ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। পরে তাঁকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

শহিদুল ইসলামকে গত শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজার জেলার কুলউড়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শহিদুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাসনি গ্রামে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, শহিদুল ইসলাম ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। তিনি এলাকায় যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। তিনি জলমহালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার দুটি জলমহাল নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজনের সঙ্গে বিরোধ ছিল। তিনি ও তাঁর লোকজন পাম্প লাগিয়ে জলমহাল সেচে মাছ ধরতেন। এতে বোরো খেতে সেচ দিতে পানির সংকটের সৃষ্টি হলে বিপাকে পড়তেন কৃষকেরা।

এ ঘটনায় নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন শহিদুলের বিরুদ্ধে শাল্লা উপজেলা প্রশাসন, থানা ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। এ কারণে তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের মানুষের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি তাঁর লোকজন গ্রামবাসীর বাধা উপেক্ষা করে জলমহাল সেচার সময় ফেসবুকে এ নিয়ে লাইভ দেন নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস। এ কারণে তাঁর ওপরও ক্ষুব্ধ ছিলেন শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন।

এই ঝুমন দাসের বিরুদ্ধেই হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এই অভিযোগে গত বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে আশপাশের চারটি গ্রামের লোকজন লাটিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা চালান। এতে ৮৮টি বাড়িঘর ও ৭টি মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সঙ্গে চলে লুটপাট।

বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় শাল্লা থানায় বৃহস্পতিবার দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী হন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম। আরেকটি মামলা করেন নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার। এই মামলার ১ নম্বর আসামি শহিদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় শাল্লা থানায় বৃহস্পতিবার দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী হন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম। আরেকটি মামলা করেন নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার। এই মামলায় ৫০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার ৪০০–১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলার ১ নম্বর আসামি শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে জেলা যুবলীগ দাবি করেছে, শহিদুল ইসলাম তাঁদের সংগঠনের কেউ নন, তাই পদে থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা বলেন, দিরাইয়ে ২০০৭ সালে রঞ্জন রায়কে আহ্বায়ক করে উপজেলা কমিটি করা হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে শুধু রঞ্জন রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর আর উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। যেখানে উপজেলা কমিটিই নেই, সেখানে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। এখন বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নানাভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, শহিদুল ইসলামকে ১০ দিন এবং অন্য ২৯ জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। রোববার এই আবেদনের শুনানি হয়নি। পরে শহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। এতদিন শহিদুল থানা হেফাজতে ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন