ফরিদা পারভিন প্রথম আলোকে বলেন, ১২ বছরের মেয়ে জন্ম থেকেই হাঁটাচলা কিংবা কথাবার্তা বলতে পারে না। দুই বছর আগে মেয়ের জন্য একটি হুইলচেয়ার দিয়েছিল একটি সংগঠন। গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। দ্রুত জিনিসপত্র নেওয়ার সময় পাননি। কিছু কাপড় নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন। ঘরের বাইরে রাখা ছিল মেয়ের হুইলচেয়ারটি। ঘর থেকে বের হয়ে সেটি খুঁজতে গিয়ে দেখেন, বন্যার পানিতে সেটি ভেসে গেছে।

শিউলির বাবা শহীদ মিয়া বলেন, ‘সকালে ঘর দেখে এসেছি। ঘরে বিছানাপত্র সব নষ্ট হয়ে গেছে। আলমারিসহ অন্যান্য মালামাল এখনো পানির নিচে। ঘরে এখনো কোমরসমান পানি।’ তিনি বলেন, মেয়ে দুধ ও কলা দিয়ে ভাত খেতে পারে। ঝাল কিছুই মুখে দিতে পারে না। এ ছাড়া শুধু কলা খায়। বন্যার সময় কলা পাওয়া যায় না। কলা আনতে বুকসমান পানি মাড়িয়ে চলতে হয়। হাতে টাকাও নেই। আশ্রয়কেন্দ্রে দিয়ে যাওয়া চিড়া-মুড়ি দিয়ে গতকাল দুই ডজন কলা এনেছেন।

শহীদ মিয়া বলেন, ‘আমরা উপোস থাকলেও সমস্যা নেই। মেয়েটি তো কথা বলতে পারে না। হাঁটাচলাও করতে পারে না। খিদে লাগলেও বলতে পারে না।’

দুইতলা ভবনের ওই আশ্রয়কেন্দ্রের চারটি কক্ষে ৩১টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে প্রায় ১০০ বাসিন্দা থাকছেন। বাইরে পানি থাকলেও আশ্রয়কেন্দ্রে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট। শৌচাগার থাকলেও পানিবন্দী থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে খাবার দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু রান্না করা খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কেউ কেউ শুকনা খাবার দিয়ে গেছেন, তা খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন