বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোজির সঙ্গে বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকার বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত এক তরুণের বিয়ে চূড়ান্ত করে পরিবার। শুক্রবার পারিবারিকভাবে এই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এমন অবস্থায় মন খারাপ করে বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় ক্লাস করতে আসে। একপর্যায়ে বিয়ে বন্ধের জন্য বাংলা বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিমের সহায়তা চান। রেজাউল করিম বিষয়টি তাৎক্ষণিক অধ্যক্ষকে জানান। অধ্যক্ষ বিষয়টি মুঠোফোনে জানান সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)।

নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি, ১৮ বছরের আগে আর মেয়েকে বিয়ে দিব না।
রোজির বাবা রফিকুল ইসলাম

খবর পেয়ে ইউএনও দুপুরেই মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মা–বাবার কাছ থেকে বাল্যবিবাহ বন্ধের মুচলেকা নেওয়া হয়। এ সময় পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর রিনা বেগম, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান, মাদ্রাসার শিক্ষক রেজাউল করিম ছাড়াও ফজলে রাব্বী, এ কে এম মকবুলার রহমান, শ্যামা কান্ত ঘোষসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সারিয়াকান্দি সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটি বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় এসে শিক্ষক রেজাউল করিমকে বিয়ে ঠেকানোর অনুরোধ করেন। রেজাউল করিমের মাধ্যমে মেধাবী ওই ছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানার পর তিনি বিয়ে বন্ধ করতে ইউএনওকে অবগত করেন।

রোজির বাবা রফিকুল ইসলাম পেশায় কাঠমিস্ত্রী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে ভরণপোষণ দিতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ কারণে শহরে বাড়ি, চাকরিজীবী ভালো পাত্র পাওয়ায় মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। শুক্রবার পাত্রপক্ষ মেয়েকে দেখতে আসার এবং মেয়ে পছন্দ হলে ঘটা করে বিয়ে আয়োজনের কথা পাকা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন খবর পেয়ে বাড়িতে এসে মুচলেকা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি, ১৮ বছরের আগে আর মেয়েকে বিয়ে দিব না।’

সারিয়াকান্দি উপজেলার ইউএনও মো. রাসেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যক্ষের মাধ্যমে মেধাবী ওই কিশোরীর বিয়ের আয়োজনের খবর পেয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মেয়েটি নিজের বিয়ে নিজেই ঠেকিয়েছে। তার এই সাহসী ভূমিকা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন