default-image

দিনমজুরি কাজ করে চারজনের সংসার চালাতেন। করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ। সংসার চালানো কষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে হাবিবা সুলতানা ‘আলোর পাঠশালা’ থেকে পেয়েছে খাদ্যসামগ্রী। কষ্টের দিনে ত্রাণ পেয়ে খুশি হেলাল উদ্দিন। এসব দিয়ে কয়েকটা দিন চলতে পারবেন।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদীর তীরে দমদমিয়া এলাকায় ‘প্রথম আলো ট্রাস্ট’ পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আলোর পাঠশালায় আজ রোববার বেলা ১১টায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করে সামিট গ্রুপ। বিদ্যালয়টিতে ১৫৫ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে বিনা বেতনে। কর্মরত রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক। তাঁদের বেতন-ভাতাও দিচ্ছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাসেলের মা খুরশিদা বেগম বলেন, ‘করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অনেক দিন ধরে স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে স্কুলে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। কারণ, কেউ আমাদের খোঁজখবর রাখছে না। সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন নেবেন। আমাদের খবর রেখেছেন এবং তাদের শিক্ষার্থীরা না খেয়ে থাকবে, সে কথা মাথা রেখে খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছে। প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই।’

বিদ্যালয়ের মাঠে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার উদ্যোগে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দুটি করে গ্লাভস ও একটি করে মাস্ক দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদুল আলম, টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন, দৈনিক মানবজমিন–এর টেকনাফ প্রতিনিধি আমানুল্লাহ কবির, রেডিও নাফের বার্তা সম্পাদক সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ মামুন, স্বাস্থ্য সহকারী জাফর আলম, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম প্রমুখ।

ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অসাধারণ এক উদ্যোগ। দেশের ক্রান্তিকালে প্রথম আলোর এ ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানাই। আজ অন্ততপক্ষে টেকনাফে ১৫৫ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষককে হাতে-কলমে হাত ধোয়ার ওপর সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পুরো উপজেলায় আমরা এভাবে যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি, করোনাভাইরাস মোকাবিলা আমাদের জন্য আরও অনেক সহজ হতো।’

ইউএনও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এ মহামারি থেকে সুরক্ষা পেতে সরকার ছুটি দিয়েছে। ঘরে বসে নিয়মিত পড়ালেখা করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের ১৫৫ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সকালে বিদ্যালয়ের মাঠে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জনপ্রতি পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল, এক লিটার সয়াবিন তেল, আধা কেজি লবণ, আধা কেজি পেঁয়াজ ও একটি সাবান দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0