বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে সম্মানের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। তদন্তের বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি স্পর্শকাতর। খুঁটিনাটি বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদন দিলেই প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় ধারণ করা অডিও, ভিডিও শুনেছি। সব মিলিয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’

হৃদয় মণ্ডলের আইনজীবী শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ২২ মার্চ হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করার পরের দিন আদালতে তোলা হয়। আদালতের শুনানিতে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে ২৮ তারিখ আবারও জামিন চাওয়া হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা জজ মামলাটি শুনানির জন্য রেখেছেন। আগামীকাল জামিনের মাধ্যমে আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ঘটনা সম্পর্কে ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ২০ মার্চ দশম শ্রেণির মানবিক শাখার বিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। সেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের পক্ষে-বিপক্ষে কথোপকথন হয়। কোনো এক শিক্ষার্থী ওই কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক সেদিনই হৃদয় চন্দ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানায়। এর পরের দিন সকালে তারা বিদ্যালয়ে এসে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, ‘আমিও এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। অনেক আগে থেকেই হৃদয় স্যারকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তাঁর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল। ধর্মান্ধতার বিষয়টি কখনো দেখিনি। তিনি কখনো কোনো ধর্মকে ছোট করে কথা বলতেন না। ধর্মীয় রীতিনীতি কারও ওপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন না।’ তাঁর সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে বিশিষ্টজন ও সংগঠনের বিবৃতি

গত বৃহস্পতিবার হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সংগঠনটির ৭২ শিক্ষক এক যৌথ বিবৃতিতে ওই দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের মতো একজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা প্রয়োজন। সেখানে রাষ্ট্র তাঁকে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। এ ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন।’

এক বিবৃতির মাধ্যমে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবি করেছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্রের শিকার শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে নির্মূল কমিটি।

এ ছাড়াও গত বুধবার উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৮ বিশিষ্টজন। তাঁরা হৃদয় মণ্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন