বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলার জি কে এস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে কথা হয় বাহাগিলী গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা কাশি মহন্তর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয় মাঠে ঝালমুড়ি বিক্রি করে তাঁর সংসার ভালোই চলত। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় ঝালমুড়ির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছি। স্কুল বন্ধের সময় বড় লোকসান হয়েছে। অনেক দিন খেয়ে না খেয়ে পার করেছি। শিক্ষার্থীদের দেখতে প্রায়ই মাঠে আসতাম। যখন দেখতাম কেউ নেই, মনটা বিষাদে ভরে উঠত। আর যেন স্কুল বন্ধ না হয়। ভগবান যেন সবকিছু আগের মতো ঠিক করে দেন।’

তারাগঞ্জ ও/এ ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান ফটকে বাদাম, বুট, আমড়া, পাঁপড় বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে কেল্লাবাড়ি গ্রামের স্বপন কুমারের। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার সঙ্গে হামার আয়ের পথ খুলেছে। এই ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু করতে পারি না। মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় অনেক কষ্টে দিন কাটাইছি। এখন স্কুল খুলছে। আবার দোকান করছি। স্কুলের টিফিন, ছুটির ঘণ্টা বাজলে ছাত্রছাত্রীদের কাছে মুড়ি, বাদাম, পাঁপড় বেচতেছি, যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। সবচেয়ে বেশি আনন্দ লাগছে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী-শিক্ষকদের দেখে।’

শুধু কাশি মহন্ত আর আর স্বপন কুমার নন। তাঁদের মতো অনেকেই প্রতিটি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় তাঁদের আয়রোজগারও ভালোভাবে শুরু হয়েছে।

তারাগঞ্জ ও/এ ফাজিল মাদ্রাসার মোড়ে কথা হয় ওই মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শাখার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে। সে বলে, ‘মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় বাসায় সব সময় একঘেয়েমি লাগত। এখন স্যাররা পড়াচ্ছেন। অনেক কিছু স্যারদের জিজ্ঞেস করে জানতে পারছি। মাদ্রাসার প্রধান ফটকে ঝালমুড়ি মামার সেই পুরোনো স্বাদের ঝালমুড়ি আবার খাচ্ছি। সব মিলিয়ে মাদ্রাসা খোলায় খুব খুশি।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলায় ৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ হাজার ৯৪০ জন ও ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৮৮৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়গুলোতে সশরীর ক্লাস শুরু হয়।

বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যালয়ের আশপাশের দোকানগুলোতে শিক্ষার্থীদের পছন্দ ও চাহিদার দিকগুলো খেয়াল রেখে সে অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের মালামাল ওঠান তাঁরা। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আসা–যাওয়া বন্ধ হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের ক্রেতার সংখ্যাও কমতে থাকে। বেচাকেনাও কমে যায়। তবে ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজগুলো খোলায় আবার শিক্ষার্থীরা কেনাকাটা করছে। দোকানগুলোতে বেচাকেনাও বাড়ছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় দেখা যায় উপজেলা সদরের ছোট–বড় সড়ক, অলিগলিতে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকে, মুখে মাস্ক পরে, কেউ বই হাতে আবার কেউ ব্যাগ কাঁধে সার বেঁধে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদ্যালয় খোলায় বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতেছে অনেকেই। করোনাভীতি থেকেই সামাজিক দূরত্বে মেনে চলাচল করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

সকাল ১০টায় তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, যাদের মুখে মাস্ক আছে, তাদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। যাদের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির ওপরে, তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সকাল ১০টায় তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, যাদের মুখে মাস্ক আছে, তাদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। যাদের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির ওপরে, তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভেতরে প্রবেশ করার পর শিক্ষার্থীরা সাবানপানি দিয়ে হাত ধুয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকছে। তারা বেঞ্চে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসছে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, দেশে সরকার ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। দফায় দফায় সেই ছুটি বেড়ে প্রায় দেড় বছর পেরিয়েছে। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে। ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরেছে। তারা বিদ্যালয়ে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন