কারণ দর্শানোর চিঠি পাওয়া ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিভাগের হিমেল, লোকপ্রশাসন বিভাগের তুহিন, মুমিন ও সাব্বির, অর্থনীতি বিভাগের তানভীর এবং ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী আবু নাঈম আবদুল্লাহ।

চিঠির বিষয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁদের নামে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, আমরা তাঁদের কারণ দর্শাতে বলেছি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে যদি তাঁরা দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হলে ছাত্রলীগ তা মেনে নেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগ করার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত রোববার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩২৪ নম্বর কক্ষে লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ নিহাদকে আটকে রেখে মারধর এবং মানসিক নির্যাতন করেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। নির্যাতন শেষে ওয়ালদিকে বিএনপির রাজনীতি করেন, এ কথা বলতে বাধ্য করে ভিডিও ধারণ করেন তাঁরা। নির্যাতনকারীরা ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিবুলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ ঘটনায় ওয়ালিদ অসুস্থ হয়ে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওয়ালিদকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের শাস্তির দাবিতে গত সোমবার থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আন্দোলনকারীরা আমরণ অনশন শুরু করলে আগামী রোববারের মধ্যে অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা। পরে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন।

এ ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৌমিত্র শেখর দেশের বাইরে অবস্থান করায় এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রোববার উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন