শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিবহনশ্রমিককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হাতে বাস শ্রমিক লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন মোটর শ্রমিকরা। এ সময় আড়াই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বুধবার সকালে
প্রথম আলো

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এক পরিবহনশ্রমিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবহনশ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বুধবার সকালে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকেরা।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে এমএম ট্রাভেলস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস পাবনায় আসছিল। পথে যাত্রাবিরতিতে ১৫ মিনিটের জায়গায় বাসটি ২৫ মিনিট দেরি করে। এতে বাসে থাকা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাসচালক ও সহকারীকে বকাবকি করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাসে ঝামেলা হয়। বাসে থাকা শিক্ষার্থী সেখান থেকেই ফোন করে সহপাঠীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নিতে বলেন।

সকাল ছয়টার দিকে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে থামতেই শিক্ষার্থীরা বাসচালকের সহকারী আবদুল বারেককে জোর করে ধরে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে মারধর করে ছেড়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে বাসটি কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে পৌঁছাতেই সেখানে থাকা মোটরশ্রমিকেরা বিষয়টি জানতে পারেন। তখনই তাঁরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সকাল সাতটায় শ্রমিকেরা টার্মিনাল এলাকা প্রদক্ষিণ করে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেখানে উপস্থিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সাড়ে নয়টায় শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

আহত সহকারী আবদুল বারেক অভিযোগ করে বলেন, যাত্রাবিরতির সময় ১৫ মিনিটের জায়গায় একটু বেশি সময় লেগেছিল। এটা নিয়ে ওই শিক্ষার্থী বাসের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করেন। তিনি শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে কয়েকজন মিলে তাঁকে ব্যাপক মারপিট করেছেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ও মোটর শ্রমিকদের নিয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছেন দুই পক্ষকে নিয়ে বসলে সমস্যার সমাধান হবে।

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, পরিবহনশ্রমিককে যখন-তখন যে কেউ মারধর করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। থানা-পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের কাছে ১২ ঘণ্টা সময় চেয়েছে। তারা জড়িত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাই তাঁরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। সঠিক ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা আবার আন্দোলনে যাবেন।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার আসমা হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অপরাধ করলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।