বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাজিরা থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী পরিবহন করা হয়। বিভিন্ন উপজেলার অটোরিকশাগুলো সরাসরি জেলা সদরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। সংশ্লিষ্ট উপজেলার সীমানায় যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার জাজিরা ডিগ্রি কলেজের ছয় শিক্ষার্থী একটি অটোরিকশায় স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা দিতে শরীয়তপুর সদরের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজে যাচ্ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে সদরের প্রেমতলা এলাকায় শিক্ষার্থীদের বহন করা অটোরিকশা যেতে বাধা দেন অটোচালক-শ্রমিকেরা। এতে তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। শ্রমিকেরা অটোচালকের কাগজপত্র রেখে দেন। পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে কাগজপত্র ফেরত চাইলে অটো শ্রমিকদের সুপারভাইজার হারুন ঢালীর নেতৃত্বে ১৫-২০ ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে মেহেদী হাসান, সাইফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন ও সোহাগ মিয়া আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অটোশ্রমিকদের সুপারভাইজার হারুন ঢালী বলেন, ‘কোনো উপজেলার অটোরিকশা সরাসরি জেলা শহরে যেতে দেওয়া হয় না। গতকাল সকালে একটি অটোকে সদরে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। যখন দেখা যায়, যাত্রীরা পরীক্ষার্থী, তখন তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা ফেরার পথে আমার ওপর চড়াও হন। এ সময় অটোশ্রমিকেরা আমাকে উদ্ধার করেছে। শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়নি।’

জাজিরা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, অটোশ্রমিকদের হামলায় চার অনার্স পরীক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ খবর কলেজে এলে অন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তাঁদের শান্ত করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি অন্যায়। তাঁদের মারধরের ঘটনা দুঃখজনক। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন