বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নোটিশ জারির পর থেকেই ফেসবুকে এ নিয়ে সমালোচনা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ এসব নিয়ম নিয়ে রসিকতাও করেছেন। এর জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, ২১ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে। তাঁদের সবাইকে নির্দেশনাগুলো মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এগুলো সাঁটানো হয়েছে।

নাদিরা রুম্মান নামের এক শিক্ষার্থী হলে সাঁটানো ১৭টি নির্দেশনার ছবি তুলে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘মানে সিরিয়াসলি! ৬.৩০ মিনিট! তার চেয়ে আমাদের ক্লাসের ব্যবস্থাও হলের ভেতরে করেন প্লিজ। আমরা ক্লাসও হলের ভেতর করব। তারপর দোকানপাট, ফার্মেসি, মেডিকেল সব হলের ভেতরেই করে দেন, যাতে মেয়েদের একেবারেই হলের বাইরে না যাওয়া লাগে। এটাই ভালো হবে। একটা সিকিউরিটির ব্যাপার আছে তো, তাই না...।’

এক শিক্ষার্থী রসিকতা করে লিখেছেন, ‘যাক, অবশেষে নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কিন্ডারগার্টেন স্কুল।’ শেষে যুক্ত করেছেন ইমোজি চিহ্ন। রিয়াদ আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী রসিকতা করে জানতে চেয়েছেন, ‘আমি বাসা যেতে চাচ্ছিলাম, এখন প্রভোস্ট স্যারের অনুমতি কীভাবে নেব?’

‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থীর উচিত সিনিয়রদের থেকে নোট নেওয়ার আগে ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান, মাননীয় প্রক্টর স্যারের থেকে সাইন করা আবেদনপত্র নিয়ে আসা’—নবীনদের উদ্দেশে এমন কথা লিখেছেন সাইদুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, এটা তো মাদ্রাসা বা কিন্ডারগার্টেন নয় যে এ ধরনের নিয়ম এখন মানতে হবে। এগুলো যদি নিয়ম হয়েও থাকে, এখন এই ’২১-২২ সালে এটা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনেই পরিবর্তন করতে হবে। এ নিয়ে আগামী রোববার তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর আহ্বায়ক রনজু হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানচর্চার মুক্ত কেন্দ্র। সেখানে এই সময়ে এসে এ ধরনের নিয়মকানুন সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতেই অনেক বছর ধরে ছাত্র সংসদ নেই। তবু ক্যাম্পাসে অন্য সংগঠনগুলো যতটুকু গণতান্ত্রিক চর্চা করার চেষ্টা করছে, সেগুলোকেও ধ্বংস করার প্রক্রিয়া এই নিয়মগুলো। এগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলে মুক্ত চর্চার দ্বার উন্মুক্ত করা দরকার।

নির্দেশনা জারির পর বিষয়গুলো দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁর মনে হয়েছে, এসব নিয়মকানুন অনেক পুরোনো। এগুলো অধ্যাদেশে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু নিয়মকানুনসংবলিত ক্যালেন্ডারে থাকতে পারে। এই সময়ে এসে এ ধরনের কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে। এগুলো নিয়ে ট্রল হচ্ছে। এটা তাঁদের কাম্য নয়। এখন এটা তারা কেন দিল, এখানে আদৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি ছিল কি না, এগুলো জানা দরকার।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীকে বৃহস্পতিবার রাতে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি। আজ শুক্রবার দুপুরে কয়েকবার কল দেওয়ার পর ধরে বলেন, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন। ৪৫ মিনিট পর কল করতে বলেন। এরপর একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য সুলতান-উল-ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রক্টরকে জিজ্ঞাসা করেছেন, এগুলো তাঁদের না জানিয়ে কেন দিতে গেছেন। এগুলো অনেক আগে থেকেই ছিল। তবে বাস্তবায়িত কখনোই হয়নি। তিনি উত্তর দিয়েছেন, তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সরল মনে এটা দিয়েছেন। এ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে।

সহ–উপাচার্য আরও বলেন, ‘এ নির্দেশনা দেওয়ার পর এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নির্দেশনা এই সময়ে রাখা যাবে না, এ ধরনের পরামর্শও পাওয়া যাচ্ছে। তাঁরাও এগুলো ভুল মনে করে পজিটিভলি নিয়েছেন। এ নির্দেশনাগুলোর মধ্যে যেগুলো ৭৩ অধ্যাদেশভুক্ত, সেগুলো নিয়েও আমরা কথা বলতে পারি। এগুলো নিয়ে সরকারকেও বলা যায় যে আমাদের শিক্ষার্থীরা এগুলো চায় না। তখন এটাকে যুগোপযোগী করা যাবে। আর তাঁরা এই পথেই এগোবেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন