default-image

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের শমসেরপুর গ্রামে শিঙ্গিমারী নদীতে সেতু না থাকায় সাঁকো দিয়ে পার হন লোকজন। এ কারণে আশপাশের ৩২টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এ কারণে সাঁকোটির পশ্চিম পারের লোকজনকে পাটগ্রাম সদরে যেতে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। অথচ সাঁকো পেরিয়ে ৩০০ গজ সামনে গেলে পাকা সড়ক। এ সড়ক দিয়ে উপজেলা সদর পাঁচ কিলোমিটারের পথ।

দৌলতপুরগ্রাম গ্রামের ভ্যানচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলখান হয়, হয় আর হয় না। বাইষার সময় যাওয়া যায় না পুল দিয়া। আবার মাটিয়া রাস্তাখান কাদায় ভরি যায়। তখন কাজ বন্ধ থাকে। কামাইও হয় না। পুলখান হইলে হামারলা কামাই হইবে, বাহে।’

শিঙ্গিমারী নদীর পশ্চিম পারে কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের কুচলিবাড়ী, কুচলিবাড়ি ছিট, গিরিয়ার পার, মেম্বারের বাড়ি, লাল স্কুল, রুমিরটারী, কলসিরমুখ বিজিবি ক্যাম্প, দোইয়ালেরটারী, ললিতারহাট, টেইলেনটারী, কলসিরমুখ, ভেদলোটারী, ডাঙাপাড়া, নদীরপাড়, দৌলতপুর ও দরগারপাড় গ্রাম। পূর্ব পারে জোংড়া ইউনিয়নের মোমিনপুর, শিমুলতা পৌরসভার মিজারকোট ও কবরস্থান বাজার রয়েছে।

শমসেরপুর গ্রামের আবুল হোসেন ও মোমিনপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, এই সাঁকোর ওপর দিয়ে গেলে পাটগ্রাম উপজেলা শহরের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার। কৃষিপণ্য নিয়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করা যায় না। এ কারণে পাঁচ কিলোমিটার পথ ১২ কিলোমিটার ঘুরে কৃষিপণ্য নিয়ে উপজেলা শহরের রসুলগঞ্জ হাটে যেতে হয়। এতে তাঁদের পণ্য বহনের খরচ বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, নদীর ওপর বাঁশের সাঁকোটি নড়বড়ে। এলাকাবাসী এই সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

পাটগ্রাম কলেজের ছাত্র নূর ইসলাম বলেন, গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে উপজেলা শহরের বিদ্যালয় ও কলেজে লেখাপড়া করে। নদীর ওপর সেতু না থাকায় অনেকে বর্ষাকালে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে চায় না। বাঁশের সাঁকোটি নড়বড়ে। এ ছাড়া কাঁচা পাঁচ কিলোমিটারের পথ ঘুরে যেতে হয়, সেটিতেও এক হাঁটু কাদা হয়। এ কারণে তারা ভয়ে সাঁকো ও কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে চায় না।

এলাকার লোকজন বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদী ভরাট হলে এখানে ৩০০ গজের বাঁশের সাঁকোর প্রয়োজন হয়। গত বছর ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় গ্রামবাসী বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেন। সেটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়। সেই ভাঙাচোরা খুঁটিতেই জোড়াতালি দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পারাপার হচ্ছেন।

কুচলিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতিমধ্যেই এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী জানিয়েছেন, একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

জানতে চাইলে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব-উল-আলম বলেন, সেতুটির নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প তালিকা অন্তর্ভুক্তির জন্য এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একনেকে পাস হলে নকশা প্রণয়নের কাজও করা হবে। বরাদ্দ পেলেই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0