বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সড়কটি মেরামতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। সড়কটি ভাঙাচোরা থাকায় শিবগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, সড়কটি ভাঙাচোরা থাকায় বেচাকেনা কমে গেছে। ভাঙাচোরা সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় ক্রেতারা অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছেন। প্রায়ই যানবাহনের চাকা গর্তে পড়ে যায়। এতে ইট কিংবা পানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিটকে পড়ছে।

শুক্রবার দুপুরে ও আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের শিবগঞ্জ এলাকা থেকে টিলাগড়গামী ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। গর্তগুলোতে পানি। সড়কটির অনেক অংশে পিচঢালাই উঠে গেছে। সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। ভাঙা সড়কে যানবাহন চলছে হেলেদুলে। সড়কটিতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গর্তে ছোট যানবাহনগুলো পড়ে অনেক সময়ে আটকে যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের নামিয়ে গর্ত থেকে যান তোলা হচ্ছে।

শিবগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী জাবের ওয়াহিদ বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন ভাঙা ও গর্তে ভরা সড়কটিতে ছোট-বড় দুর্ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। বেশির ভাগ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন রিকশার যাত্রীরা। ভাঙা সড়কে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।’

জাবের ওয়াহিদ আরও বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে ঠিকমতো ব্যবসা করা যাচ্ছে না। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ক্রেতারা পানি-কাদা মাড়িয়ে চলাচল করায় স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সড়কটি মেরামত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।

শিবগঞ্জের লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেবুল আহমদ বলেন, এ সড়কটি দিয়ে হেঁটে চলাচলের সময়ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। অনেক সময় যানবাহনের চাকা সড়কের গর্তগুলোতে পড়ে পানি ছিটিয়ে দেয়। এসব পানি ছিটকে পথচারীদের শরীরে এসে পড়ে।

জানতে চাইলে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিবগঞ্জ-টিলাগড় সড়ক মেরামতের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়েছে। এরপরও ভাঙাচোরা সড়কটির গর্তগুলো ভরাটের প্রাথমিক কাজ আমরা ধাপে ধাপে করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিলেট নগরের নাইওরপুল থেকে টিলাগড় পর্যন্ত সড়ক মেরামত কাজের জন্য আমরা চার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছি। তবে এখনো সেটির কার্যাদেশ হয়নি। আশা করছি, দ্রুত কার্যাদেশ হয়ে যাবে।’

নূর আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘জনভোগান্তি দূর করতে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সড়কের ওই অংশ দ্রুত মেরামত করার নির্দেশনা দেব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন