default-image

মাদারীপুরে শিবচরে বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। পানিবন্দী প্রায় ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আড়িয়াল খাঁ নদের পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ফলে শিবচরসহ জেলা সদরের আরও বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে পদ্মার পানি কয়েক দিন ধরে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলে বসবাস করা হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। পানিবন্দী এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। একই সঙ্গে নতুন করে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। নদ-নদীর ভাঙনে ক্ষতির শিকার হয়েছে বেশ কিছু স্থাপনা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর পানি বেড়েছে। এতে শিবচরের চরাঞ্চলের চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি, বন্দরখোলাসহ নয়টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। পানিবন্দী এই উপজেলার ১০ হাজার মানুষ প্রায় ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। একই সঙ্গে ভাঙনের শিকার হয়েছে তিন ইউনিয়নের অন্তত তিন শতাধিক বসতঘর। ভাঙন থেকে বাঁচতে অন্যের ভিটায় আশ্রয় নিয়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। অন্যদিকে আড়িয়াল খাঁর পানি বাড়ায় সদরের শিড়খারা, রাজারচর ও ধুরাইল ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবচরে গত তিন দিনে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে চরজানাজাত ইউনিয়নের অন্তত ২০টি বসতঘর। এ ছাড়া নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে এই ইউনিয়নের ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে পদ্মায় বিলীন হয়েছে চরজানাজাতের একটি মাদ্রাসা ভবন, একটি মসজিদ ও তিন ইউনিয়নের অন্তত তিন শতাধিক বসতঘর।

চরজানাজাত এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আবদুল মান্নান বলেন, ‘নদীর প্রবল স্রোতে আমার ঘরটা ভাসাইয়া লইয়া গেল। ঘরের কিছুই সরাতে পারি নাই। খালি হাতে আশ্রয় নিয়েছি পাঁচ্চর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে।’

বসতঘর ভেঙে যাওয়ায় পাঁচ্চর এলাকায় আশ্রয় নেওয়া মাসুদ ফকির বলেন, ‘বানের পানি বাড়তে থাকায় ঘরের টিন, দরজা খুলে এখানে চইলা আইছি। জানি না কত দিন এখানে থাকতে পারুম। কোনো কাম–কাইজ পাই না। খুব কষ্টের মধ্যে আছি আমরা।’

default-image

পাউবোর মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, পদ্মায় পানি নতুন করে বাড়েনি। একই লেভেলে আছে। বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। তবে, আড়িয়াল খাঁর পানি পাঁচ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শিবচরে আড়িয়াল খাঁর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সদরে এই নদের পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এরপরও সদর ও কালকিনির বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, আরও দু-তিন দিন পানি কমার সম্ভাবনা নেই। বন্যা পরিস্থিতি আগামী আরও এক সপ্তাহ এমনই থাকবে। অবনতিও হতে পারে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পানিবন্দী ও ভাঙনকবলিত দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। আরও অনেকে অন্যের ভিটায় আশ্রয় নিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন