default-image

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলগুলোতে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। নতুন করে বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে বন্যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত দুদিনে জেলার নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পদ্মা নদীর পানির লেভেল ৬ দশমিক ৫ মিটার। অর্থাৎ পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুদিনে শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত ৯টি ইউনিয়নে বন্যার পানি ২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষের।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদ-নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বহেরাতলা, শিরুয়াইল, নিলক্ষ্মী, বন্দরখোলা, বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ি, সন্যাসীরচরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। মাদারীপুর সদর, রাজৈর ও কালকিনি উপজেলায় বন্যার পানিতে কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভাঙনের শিকার হচ্ছে বেশ কয়েকটি নতুন এলাকা।

পাউবো মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, জেলায় সব কটি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি এখন খারাপের দিকে। আগামী দুই-তিন দিন এমন থাকবে। পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনও বেড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে তাঁরা সাধ্যমতো নদ-নদীর বিভিন্ন অংশে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করে যাচ্ছেন।

বন্যাকবলিত এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় গতকাল বুধবার রাতে চরজানাজাত ইউনিয়নের রশিদ মোল্লাকান্দি এলাকার একটি কালভার্ট, রাস্তা, বাজারসহ এই এলাকায় বেশি কয়েকটি বসতঘর নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর দুদিন আগে একই ইউনিয়নের মিনাকান্দি এম এস দাখিল মাদ্রাসার দুইতলা ভবন, সাত–আটটি বিদ্যুতের খুঁটিসহ গাছপালা নদীর গর্ভে চলে যায়। নদীর ভাঙন থেকে বাঁচতে বসতঘর ভেঙে অন্যের ভিটায় আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে পানিবন্দী মানুষেরা।

চরজানাজাত এলাকার রাশেদা বেগম বলেন, ‘পানির মধ্যে দিনরাত কাটাইতাছি। রাতে ভয়ডর নিয়েই থাকতে হয়। কোথায় যামু? যেখানেই যাই সেখানে পানিতে তলিয়ে যায়। পানি বাড়ায় গরু-ছাগল নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে জীবন কাটাইতাছি।’

কাঁঠালবাড়ি এলাকার হায়দার মাদবর বলেন, ‘এক মাস ধরে পানির মধ্যে মাচা করে থাকতাছি। ১৫ কেজি চাউল ছাড়া আর কোনো কিছুই সরকার থেকে পাই নাই। খালি চাউল দিয়া কী আর সংসার চলে? তাই বন্যার পানিতে জাল ফেলে মাছ ধরি, আর মাছ বেইচা যা আয় হয় তা দিয়াই কোনোরকম সংসার চালাই।’

জেলা প্রশাসক রহিমা খতুন বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তারা তাদের কাজ চলমান রেখেছে। যেখানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে, তারা সেখানেই জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করে যাচ্ছে। আর বন্যায় পানিবন্দী পরিবারগুলোকে আমরা প্রতিনিয়ত ত্রাণসহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0