বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিমুলিয়া ফেরিঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামনে ঈদুল আজহা। চার দিন ধরে এই নৌপথ দিয়ে দেশের দক্ষিণের জেলার মানুষ বাড়ি যাচ্ছে। এর ফলে শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীও যানবাহনের চাপ চলমান। এবার লকডাউনের আগে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে নিজের গ্রামে ফিরে গেছে। লঞ্চ চলাচলও স্বাভাবিক আছে। তাই গত ঈদুল ফিতরের তুলনা চাপ কম আছে। ঘাটে আসা যানবাহনগুলো কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরই ফেরিতে উঠতে পারছে। বহু যাত্রী লঞ্চে করে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে।

আজ সকালে দেখা যায়, ঘাটে যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরের সমসপুর থেকে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়কজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখা হয়েছে। শিমুলিয়া-ভাঙ্গা মোড় দিয়ে যাত্রী ও পরিবহনগুলো ঘাটের দিকে ছুটছে। ঘাটের প্রবেশদ্বারে পুলিশের নিরাপত্তাচৌকি বসানো হয়েছে। ফেরিঘাটে সংযোগ সড়কেই যানবাহনের সারি।

সুজন হালদার নামের এক গার্মেন্টসকর্মী বলেন, দুদিন পরই ঈদ। ঢাকায় আত্মীয়স্বজন কেউ নেই। তাই ঈদের ছুটি পরিবারের সঙ্গে কাটাতে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা যাচ্ছেন তিনি।

রুমানা ইসলাম নামের সুন্দরবন পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, সারা বছর চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। ঈদ উপলক্ষে কেবল পরিবারের সবাই একসঙ্গে হয়। তাই খুলনার পাইকগাছা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তিনি।

প্রাইভেট কারের যাত্রী সাদিয়া জাহান বলেন, সকালে ঘাটে এসেছেন। ফেরিতে উঠতে পারেননি। গরমে কিছুটা কষ্ট আছে। তবে গ্রামের কথা ভাবলে আর কষ্ট থাকে না।

এদিকে কড়াকড়ির পরও লঞ্চঘাটে সাধারণ যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাচ্ছে না। ঘাটে লঞ্চ আসামাত্রই তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে যাত্রীরা।

তিন নম্বর লঞ্চঘাটে গোপালগঞ্জগামী যাত্রী মো. পারভেজ হোসেন বলেন, তিনি সিঙ্গার কোম্পানিতে চাকরি করেন। থাকেন ঢাকার ধামরাইয়ে। লকডাউনের আগে তাঁর স্ত্রী ছেলেমেয়ে নিয়ে গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। সামনে ঈদ। তাই স্ত্রী-সন্তানদের আনতে তিনি গোপালগঞ্জে যাচ্ছেন। আবার ঝুঁকি নিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে ধামরাই ফিরবেন।

মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক সিরাজুল কবির বেলা পৌনে ১১টার দিকে বলেন, লঞ্চঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য একটা পুলিশ কন্ট্রোল রুম রয়েছে। সেখানে যাত্রীদের মাস্ক পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে লঞ্চে ওঠার পর মাস্ক মুখে রাখছে না যাত্রীরা। ঘাটে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম। মানুষ আগেভাগে গ্রামে চলে যাওয়ায় ঘাটে চাপ আর নাও বাড়তে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন