ঢাকার আশুলিয়ার পোশাকশ্রমিক রেহানা বেগম বলেন, আগামীকাল থেকে তাঁর গার্মেন্টস খোলা। ঈদের ছুটি শেষে তাই তিনি তাঁর কর্মস্থলে ফিরছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি গোপালগঞ্জ থেকে আসতে পথের প্রতিটি যানবাহনে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েছেন। স্পিডবোটে ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিয়েছেন। বাসে ননএসিতে যাবেন। সব সময় ৮০ টাকায় ভাড়া দিতেন। এখন তার কাছ থেকে ১২০ টাকা আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।

আমরা যখন সেখানে যাই, তখন কাউকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেখিনি। এমনকি আমরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীরাও নির্ধারিত ভাড়ায় যাচ্ছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।
শিলু রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মুন্সিগঞ্জ

একই অভিযোগ করেন ফরিদুল ইসলাম নামে আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, ‘কোথাও শান্তি নেই। সব জায়গায় বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে তাঁরা যানবাহন থেকে নেমে যেতে বলছেন। দেশটা মগের মুল্লুক হয়ে গেছে। যে যার মতো করে ভাড়া আদায় করছে। আমাদের কর্মস্থলে ফিরতে হবে। তাই বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছি।’

ভবতোষ চৌধুরী নামের মুন্সিগঞ্জের এক যাত্রী বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে প্রতিটি সিএনজি, লেগুনা তাদের ভাড়া দ্বিগুণ করে দিয়েছে। শিমুলিয়া থেকে যাত্রাবাড়ীর ভাড়া ছিল ১৭০ টাকা। সেই ভাড়া ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জ থেকে শিমুলিয়া ঘাটে ভাড়া ছিল ১০০ টাকা। ভাড়া ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

default-image

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে ইলিশ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আকবর বেলা দেড়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বাসগুলো শিমুলিয়া ঘাট থেকে গুলিস্থান ও যাত্রাবাড়ী যায়। এসি বাসগুলোর ভাড়া ১৫০ টাকা ছিল। ননএসি বাসের ভাড়া ৮৫ টাকা নেওয়া হতো। ঢাকা থেকে সব কোম্পানির বাসগুলো ঘাটে খালি আসছে। এই দিকে যাত্রীর চাপ আছে। এ জন্য খরচ পোষাতে ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে।’

এ নিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে কথা হয় মুন্সিগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিলু রায়ের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্পিডবোট-বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় যাতে না হয়, সে জন্য আমরা সার্বক্ষণিক মনিটর করছি। আমরা যখন সেখানে যাই, তখন কাউকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেখিনি। এমনকি আমরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীরাও নির্ধারিত ভাড়ায় যাচ্ছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এরপরও যদি কেউ কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে, আমরা সেখানে অভিযান করব। তাদের আইনের আওতায় আনব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন