আজ সন্ধ্যার পর থেকে নৌপথের বিভিন্ন স্থানে স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে চালকদের ফেরি চালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে সন্ধ্যায় যেসব ফেরি জাজিরা প্রান্তের সাত্তার মাদবর–মঙ্গলমাঝির ঘাটে গিয়েছিল, সেগুলো শিমুলিয়ায় ফেরার পর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা গতকাল সুরেশ্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ছিল ৪৪৬ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে। আজ তা বিপৎসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে নদীতে স্রোত ও ঢেউ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণন। এ জন্য নদীতে চলাচলকারী নৌযান চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে। শরীয়তপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী স্থানে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া সাত্তার মাদবর–মঙ্গলমাঝির ঘাটে চার শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ফেরির মাস্টার (চালক) মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত রাতে দুর্ঘটনার কারণে আমরা বিচলিত হয়ে পড়েছি। ঝুঁকি নিয়ে রাতে নৌযান চালানো সম্ভব নয়।’

ঘাটে আটকে পড়া কাঁচামালবাহী পিকআপভ্যানের চালক সাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘দুপুরে ঘাটে এসেছি। রাত ৯টা পর্যন্ত ফেরির সিরিয়াল পাচ্ছিলাম না। সাড়ে নয়টার দিকে ট্রাফিক পুলিশ জানান, ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। দৌড়ে ঘাটে গিয়ে দেখি পন্টুনে কোনো ফেরি নেই। আমরা এখন কোথায় যাব? এভাবে ফেরি বন্ধ করে দিলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে—তা কেউ একটিবারও চিন্তা করল না!’

নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আহম্মেদ আলী।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত। জাজিরার মাঝিকান্দি টার্নিংয়ের সিনোহাইড্রোর জেটির কাছে ও পদ্মা সেতুর টার্নিং পয়েন্টে অতিমাত্রায় ঘূর্ণন রয়েছে। সেখানে ফেরি রাখা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে রাত সাড়ে নয়টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পথের যানবাহনগুলোকে বিকল্প হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন