বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, ফেরি ফরিদপুর এক সপ্তাহ যাবৎ শিমুলিয়া-জাজিরা নৌপথে চলাচল করছে। গতকাল দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটের সময় ১৫টি যানবাহন ও ২৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটের দিকে রওনা হয়। রাত সোয়া তিনটার দিকে পদ্মা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ফেরিটি। তখন বালুবোঝাই একটি বাল্কহেড ফেরিটিকে ধাক্কা দেয়। তখন ফেরিটি নদীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুতের পুলের (খুঁটি) সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এরপর ফেরিটি ডুবচরে আটকা পড়ে। তখন ফেরির সামনের দিকে থাকা একটি র‍্যাম্প ভেঙে যায়। র‍্যামের নিচে একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে। চার ঘণ্টায় চেষ্টায় ডুবোচর থেকে ফেরি নামিয়ে আনেন চালক। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটে ফেরিটি ভেড়ে। ফেরির অন্য র‍্যাম্প দিয়ে যানবাহন নামানো হয়।

ফেরি ফরিদপুরের মাস্টার (চালক) শৈশব দে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস আর বৃষ্টিতে ফেরি চালাতে সমস্যা হচ্ছিল। পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ একটি বাল্কহেড ফেরির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়। তখন ফেরিটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ফেরি রক্ষা করার জন্য ডুবোচরে তুলে দিই। পরে নদীতে জোয়ার হলে ডুবচর থেকে ফেরি নামিয়ে আনা হয়। যানবাহন ও যাত্রীদের কোনো অসুবিধা হয়নি। ফেরিটি মেরিন বিভাগের প্রকৌশলীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার পরে সিদ্ধান্ত নেবেন, এটা ডকে পাঠানো লাগবে কি না।’

ওই ফেরির এক যাত্রী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরিতে দুই দফা ধাক্কা লাগে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। চার ঘণ্টা আতঙ্ক নিয়ে পদ্মা নদীর চরে আটকে ছিলাম।’

জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় গত বছর আগস্টে এবং গত মাসে দুটি ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়। ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ২৮ এপ্রিল থেকে দুটি নৌপথে দিন–রাতে ১০টি ফেরি চালানো হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আহম্মেদ আলী বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে ফেরিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফেরির র‍্যাম্প ভেঙে গেছে। সেটি সংস্কার করা হবে। এরপর পুনরায় ওই নৌপথে ফেরিটি চলাচল করবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন