default-image

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌপথে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। উভয় ঘাটে যানবাহনের চাপ না থাকলেও বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে আজ শনিবার ফেরিতে উভয় ঘাট দিয়ে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছেন।

শিমুলিয়া ফেরিঘাট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি পণ্য, লাশ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স বহনের জন্য সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করে। ঘাটে যানবাহনের চাপ না থাকলেও গতকাল শুক্রবার থেকে উভয় ঘাটে রয়েছে যাত্রীদের চাপ।

শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, লকডকউনের কারণে ১৪টি ফেরির মধ্যে মাত্র ৫টি ফেরি চলাচল করছে। এসব ফেরিতে জরুরি পণ্য, লাশ ও রোগীবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। যাত্রীদের উঠতে নিষেধ করা হলেও যাত্রীরা তা মানছেন না। যাত্রী নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রশাসনের দেখার দায়িত্ব।

শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন বেলা ১১টার দিকে বলেন, ঘাটে গাড়ির কোনো চাপ নেই। গাড়ি আসামাত্রই ফেরিতে করে পার হতে পারছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে করেই যাত্রীরা পার হচ্ছেন। নিষেধ করেও আটকানো যাচ্ছে না। তবে মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ঘাটে যাত্রী থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রতিটি ফেরিতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। আজ সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে দেশের অন্যতম এই নৌপথ ব্যবহার করছেন। লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হচ্ছেন। এদিকে পারাপার হওয়া যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হলেও বেশির ভাগ যাত্রীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা নেই। যাত্রীর মুখে মাস্ক থাকলেও ফেরিতে একজন অন্যজনের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আজ অন্য দিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি। একটি ফেরিতে এক হাজারের ওপরে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। ঘাটে গাড়ির চাপ কম, তবে মানুষের চাপ খুব বেশি। আগামীকাল রোববার থেকে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা। তাই যাঁরা এখন ঢাকার দিকে যাচ্ছেন, তাঁরা কেউ ব্যবসায়ী, তবে বেশির ভাগই শ্রমিক।

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে সাধারণত ১৬টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়। লকডাউনের কারণে ১৪ এপ্রিল থেকে সীমিত করা হয় ফেরি চলাচল। লকডাউনের শুরুতে দিনের বেলায় ২ থেকে ৩টি ফেরি ছাড়া হলেও গতকাল শুক্রবার থেকে যাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে আসা যানবাহনের চাপ বেশি থাকা ৫টি ফেরি চলাচল করছে। ৫টি ফেরিতে যাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে আসা অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

আজ বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাবাজার ঘাটের টার্মিনালে বাসস্ট্যান্ডে কোনো গণপরিবহন নেই। যাত্রীরা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলারে করে ভেঙে ভেঙে বাংলাবাজার ঘাটে আসছেন। ঘাটে এসেই তাঁরা ফেরিতে উঠতে পারছেন না। ফেরি চলাচল সীমিত হওয়ায় তাঁরা ফেরির জন্য পন্টুনে অপেক্ষা করছেন। যাত্রীদের অনেকে হাওর অঞ্চলে ধান কাটার জন্য যাচ্ছেন।

বরিশালগামী যাত্রী শাহীন খান বলেন, ‘লকডাউনে দোকান বন্ধ করে দেওয়ায় বেকার হয়ে পড়ি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে দেশের বাড়ি চলে আসি। কাল থেকে দোকান খোলা। তাই ভেঙে ভেঙে অনেক কষ্ট করে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। এখন ঢাকায় যাইতে পারলেই হয়।’

গুলিস্তানের ফুটপাতে দোকান করেন মোসলেম মিয়া। তিনি ঢাকায় ফিরছেন আজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় লোকসানে আছি। দোকান না করতে পারায় কোনো আয়রোজগার নাই। সামনে ঈদের কেনাবেচা বাড়বে। তাই আগেভাগেই দোকান সাজাতে হবে। মাল উঠাইতে হইবে। অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় যাইতাছি।’

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘লকডাউনের শুরুতেই আমরা সীমিত আকারে ফেরি চালু রেখেছি। কাল থেকে দোকানপাট, শপিং মল খোলা। তাই যাত্রী অন্য দিনের তুলনায় আজ বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে। মাস্ক পরে ফেরিতে ওঠানো হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন