বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে বাসে শিমুলিয়া এসে পদ্মা নদী পারাপার হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয় যাতায়াত করেন যাত্রীরা। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া, মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও শরীয়তপুরের জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট দিয়ে পদ্মা পারাপার হতে হয়। দ্রুত পারাপার হওয়ার জন্য যাত্রীরা স্পিডবোটে চড়েন। আগে নৌপথ দুটিতে ৪৫০টি স্পিডবোট চলাচল করত। চলাচলকারী স্পিডবোটগুলোর কোনো অনুমোদন ছিল না, চালকদের ছিল না কোনো সনদ।

নিবন্ধনবিহীন স্পিডবোটগুলোর চালকেরা শিমুলিয়ার স্পিডবোটঘাটের অদূরে নোঙর করে রাখে। সেখান থেকে ও লঞ্চ থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। আবার বাংলাবাজার ও সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটের অদূরে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছর ৩ মে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে ৩১ জন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে রওনা হয়। ঘাটের কাছে কাঁঠালবাড়ি এলাকায় নোঙর করে রাখা বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডে ধাক্কা লেগে স্পিডবোট পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। সেখানে ২৬ যাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই স্পিডবোটেরও কোনো অনুমোদন ও চালকের সনদ ছিল না। নৌ পুলিশ স্পিডবোটচালক, মালিক ও ঘাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর পরপরই নৌপথ দুটিতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করা হয়।

সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ১৫৩টি স্পিডবোটের চালকদের সনদ ও স্পিডবোট চলাচলের নিবন্ধন দেয়। অনুমোদিত ওই স্পিডবোটগুলো এখন নৌপথটিতে যাত্রী পারাপার করছে। তবে ঈদে ঘরমুখী মানুষের গ্রামে ফেরা শুরু হলে নিবন্ধনবিহীন স্পিডবোটগুলোও যাত্রী পারাপার শুরু করেছে। নিবন্ধনবিহীন স্পিডবোটগুলোর চালকেরা শিমুলিয়ার স্পিডবোটঘাটের অদূরে নোঙর করে রাখে। সেখান থেকে ও লঞ্চ থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। আবার বাংলাবাজার ও সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটের অদূরে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। ঘাটে দায়িত্বরত নৌ পুলিশ সদস্যরা অনুমোদনহীন স্পিডবোট বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

বাংলাবাজার ঘাটের স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের টার্মিনাল থেকে নিবন্ধন আছে—এমন স্পিডবোট চলাচল করছে। বিআইডব্লিউটিএ যে স্পিডবোটগুলোয় চালকের নাম, মালিকের নাম, ফোন নম্বর, নিবন্ধন নম্বর দিয়েছেন, ঘাটে সেই স্পিডবোটগুলোই ভিড়তে দেওয়া হয়। এর বাইরে কোথায় কী চলে, তা আমাদের নজরে নেই।’

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার ঘাটের পরিবহন পরিদর্শক আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিবন্ধনবিহীন কিছু স্পিডবোট চলাচলের তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নৌ পুলিশকে বলা হয়েছে।’

চরজানাজাত নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. জাহানুর আলী বলেন, ‘ঈদের সময় ঘাটগুলোয় অনেক সমস্যা থাকে। আমাদের সীমিত লোকবল দিয়ে ঘাটের ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখাই মুশকিল। সেখানে নদীতে কারা অবৈধ নৌযান চালায়, তা নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয় না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন