default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল থেকে ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ ঘোষণায় মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রী ও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ বেড়েছে। ফেরিতে যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই ফেরি, স্পিডবোট ও ট্রলারে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ফলে, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিমুলিয়া ফেরিঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বুধবার থেকে দেশে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই ঘোষণার পর থেকেই শিমুলিয়া ঘাট হয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের দিকে যাত্রা করেছেন ২১ জেলার মানুষ। গতকাল রোববার সকাল থেকেই এই ঘাটে চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। রাতে ঘাটে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আজ সোমবার সকাল থেকে চাপ আরও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। দুপুর নাগাদ ঘাটে যানবাহন ও মানুষের জটলা বেঁধে যায়। শিমুলিয়া ঘাট পারাপারের অপেক্ষায় আছে সাত শতাধিক যানবাহন। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার লকডাউনের ঘোষণা দিলেও মানুষের মধ্যে তেমন সতর্কতা নেই।

আজ শিমুলিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় প্রতিটি ফেরিতে। গায়ে গা ঘেঁষে, কেউ মাস্ক পরে, আবার কেউ মাস্ক ছাড়া পদ্মা নদী পার হওয়ার জন্য ফেরিঘাটে অপেক্ষা করছেন। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা লক্ষ করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পদ্মার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে লঞ্চ যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, স্পিডবোট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা চলছে। স্বাভাবিক সময়ে ট্রলারে যাত্রী পারাপার করা হয় না। এখন বিকল্প পথ হিসেবে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ট্রলারে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন। এতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাঁরা দক্ষিণাঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছেন, তাঁদের বেশির ভাগই শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বেসরকারি চাকরিজীবী। গত সাত দিনের লকডাউন ইতিমধ্যে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ঢাকায় উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ায় ও সঞ্চয় না থাকায় তাঁরা বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

default-image

শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, লকডাউন উপেক্ষা করে ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে। ১৩টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পার হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে খেতে হচ্ছে হিমশিম। মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। এত বলাবলি করেও যাত্রীদের সচেতন করা যাচ্ছে না। ফেরিতে গাদাগাদি করে ওঠানো কোনোভাবেই আটকানোও সম্ভব হচ্ছে না।

আজ দুপুরে শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন বলেন, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘাটে দুই থেকে আড়াই শতাধিক যানবাহন ছিল। আজ সকাল থেকে চাপ বাড়তে শুরু করে। দুপুর পর্যন্ত ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছেন। ঘাটে সাত শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে ২০০ মালবাহী ট্রাক। এ ছাড়া ছোট গাড়ির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কুমারভোগ থেকে শিমুলিয়া ঘাটের সড়ক পর্যন্ত দুই কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের জটলা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন