বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা সদরের অন্তত ১০টি মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা। মণ্ডপগুলো ঘিরে নানা বয়সী মানুষ উৎসুক চোখে দেখছে প্রতিমা। প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমাশিল্পীদের রংতুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। সঙ্গে দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশের মূর্তিতেও চলছে রংতুলির আঁচড়। রং করা হচ্ছে মহিষাসুর, দেবীর বাহন সিংহ, হাঁস, প্যাঁচা, ইঁদুর, ময়ূরও। চলছে নানা রঙের আলোকসজ্জার বাতি-যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজও।

default-image

শহরের মিলন সিনেমা হল এলাকার দুর্গামন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন শিল্পী জগদীশ পাল (৬৫)। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি নিজে ছয়টি প্রতিমা তৈরির কাজের অর্ডার পাইছি। প্রতিটি প্রতিমা তৈরি করে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পাই। সব কটি মণ্ডপে মাটির কাজ শেষ। এখন রংতুলির কাজ চলতাছে। পূজার আগের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ চলবে।’ প্রবীণ এই প্রতিমাশিল্পী আক্ষেপ করে বলেন, ‘দিন দিন সবকিছুর দাম বাড়লেও আমাগো দাম বাড়ে না। এ বছর প্রতিমা বানাইয়া যা পামু, তা দিয়া কোনোরকমে ছয় মাস কাটাতে পারব। তারপর অন্য কিছু কইরা সংসার চালাতে হইব।’

মাদারীপুরের সঙ্গে বরিশাল ও শরীয়তপুর জেলা মিলিয়ে মোট আটটি মণ্ডপে প্রতিমা নিজ হাতে গড়েছেন শিল্পী বিপ্লব পাল (৩৮)। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। মাদারীপুর বলরাম মন্দিরের দেবী দুর্গার মূর্তিতে রংতুলির ছোঁয়া দিতে দিতে তিনি বলেন, সব কটি প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। একটি কাজ শেষ করেই ছুটতে হচ্ছে আরেকটি প্রতিমার কাজ শেষ করতে। দম ফেলার এখন সময় নেই তাঁর। করোনা মহামারির জন্য এবার প্রতিমায় তৈরিতে দাম গতবারের তুলনায় অনেকটাই কম। তবু বংশপরম্পরায় প্রতিমা গড়ার কাজ করতে পেরেই খুশি বলে জানান এই প্রতিমাশিল্পী।

default-image

জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি প্রাণতোষ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবার পূজায় আতশবাজি, আলোকসজ্জা, মেলার আয়োজন, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জনসমাগম পরিহার করতে হবে। আমাদের সব আয়োজনই শেষের পথে। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে প্রতিটি পূজামণ্ডপ প্রস্তুত।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে তাঁরা আয়োজকদের সঙ্গে সভা করেছেন। প্রতিটি মণ্ডপে যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া আনসার সদস্যসহ মণ্ডপগুলোয় সার্বক্ষণিক পুলিশের ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

সিংহবাহিনী দেবী দুর্গার আগমন এবার ঘোটকে। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীবিহিত পূজার পর ১২ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৩ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১৪ অক্টোবর সন্ধিপূজা ও মহানবমী এবং ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূজা শেষে বিসর্জন। প্রতিদিন সকালে দেবীর অঞ্জলি ও সন্ধ্যায় আরতি দেওয়া হবে। আগামী শুক্রবার দশমীর বিসর্জনের পর দোলায় চেপে কৈলাসে ফিরবেন উমা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন