শিশু অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি: স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি

শেরপুরের নকলায় চার বছরের শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির মামলায় এক দম্পতির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. আখতারুজ্জামান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দুটি পৃথক ধারায় এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত এই দম্পতি হলেন নকলা উপজেলার পাঁচকাহনীয়া গ্রামের হোসেন আলী (৩৯) ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (৩৪)। তাঁরা দুজনই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এই রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৮ ধারা অনুয়ায়ী, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ওই দম্পতির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। একই আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী, শিশু অপহণের অভিযোগে তাঁদের ১৪ বছরের করাদাণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও  ১০ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। উভয় সাজা একত্রে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

আদালত সূত্রে মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর হোসেন আলী ও তাসলিমা খাতুন বেড়ানোর কথা বলে নকলা উপজেলার শালখা গ্রামের আবদুল জলিলের ৪ বছরের মেয়ে আকলিমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মুঠোফোনে তার (আকলিমা) বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন ওই দম্পতি। কিন্তু দরিদ্র পিতা মুক্তিপণ দিতে অসমর্থ হওয়ায় ঘটনাটি নকলা থানার পুলিশকে জানান তিনি। পরে ২০১১ সালের ১ নভেম্বর শিশুটির বাবা আবদুল জলিল বাদী হয়ে হোসেন আলী ও তাসলিমার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নকলা থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অনুসন্ধান করে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

মামলার তদন্ত শেষে নকলা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিসুর রহমান ২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর হোসেন আলী ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা খাতুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত সোমবার রায় ঘোষণা করেন।