default-image

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গোবিন্দগঞ্জ এলাকার একটি ব্যাংকের পাশে গাড়ি রেখে ওই ব্যাংকে মালিকের কিছু টাকা জমা দিতে গিয়েছিলেন গাড়িচালক করম আলী। এ সময় গাড়িতে মালিকের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে হালিমা নুশরাত ঊর্মি বসা ছিল। গাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালু থাকায় চাবিও লাগানো ছিল গাড়িতে।

মিনিট দশেক পর করম আলী ফিরে এসে দেখেন গাড়ি নেই, হালিমাও নেই। এরপর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার ছয় ঘণ্টা পর ছাতক ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা–পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিলেট থেকে গাড়িসহ শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় রুকন মিয়া (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। হালিমা নুশরাত গোবিন্দগঞ্জ এলাকার শহীদপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। মিজানুর রহমানের একটি মাইক্রো আছে। রোববার সকালে মাইক্রোর চালক করম আলী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার সময় শিশু হালিমাও তাঁর সঙ্গে যায়। তিনি হালিমাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে ব্যাংকের ভেতরে যান। করম আলী ব্যাংক থেকে বের হয়ে দেখেন হালিমাসহ গাড়িটি নেই। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ঘটনাস্থলের পাশে থাকা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটি সিলেটের দিকে গেছে। এরপর পুলিশ অভিযানে নামে।

বিজ্ঞাপন

বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ প্রথমে সিলেট নগরের কদমতলী এলাকা থেকে প্রথমে গাড়িটি জব্দ করে। এর ঘণ্টাখানেক পর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার গোটাটিকর এলাকার আলা উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ হালিমাকে উদ্ধার করে। এ সময় রুকন মিয়াকে আটক করে পুলিশ। রুকন মিয়া আলা উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি একসময় গাড়ি চালাতেন। এখন বেকার। তাঁর গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অভিযানে নামি। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানা–পুলিশও অভিযানে সহযোগিতা করে। ছয় ঘণ্টা পর আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করি। তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রুকন মিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল গাড়িটি চুরি করা। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন