বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার সকালে শফিউল্লাহ কাটা আশ্রয়শিবির ঘুরে দেখা গেছে, ত্রিপলের ছাউনি টেনে সেটির নিচে কোনোরকমে দিন পার করছেন রোহিঙ্গারা। তবে চালার চারদিকে কোনো ঘেরা না থাকায় শীতে কাবু হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। ধ্বংসস্তূপের এক কোণায় চারটি কংক্রিটের খুঁটিতে একটি ছাউনি টেনে অবস্থান করছেন রোহিঙ্গা সাদেক আহমদ। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে।

সাদেক আহমদ বলেন, গতকাল সোমবার দুপুর থেকে তাঁদেরকে এনজিওর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। কিছু রোহিঙ্গাদের শুকনা খাবার, রান্নারান্নার জন্য গ্যাসের সিলিন্ডার ও কাপড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাথা গোঁজার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। রাতে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের খুব কষ্ট হচ্ছে।

default-image

আরেক রোহিঙ্গা কামাল উদ্দিন বলেন, দুপুর ও রাতের জন্য দুই বেলা রান্না করা খাবার সরবরাহ হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী তাঁরা দোকান থেকে কিনতে পারছেন না। কারণ, কেনাকাটার জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) থেকে দেওয়া ডিজিটাল কার্ডটি (ই-ভাউচার) আগুনে পুড়ে গেছে। কেনাকাটার জন্য তাঁদের হাতে টাকাও নেই।

ধ্বংসস্তূপের উত্তরপাশে ত্রিপল টানিয়ে দুই রাত কাটিয়েছেন রোহিঙ্গা হেলাল উদ্দিন। সঙ্গে তাঁর মা, স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে। হেলাল উদ্দিন জানান, গতকাল সকালে তিনি বাজার থেকে পলিথিন কিনে এনে ঘরের চালা দিয়েছেন। তাতে কুশায়া ধরে রাখা গেলেও শীতের ঠান্ডা হাওয়ায় কারোর ঘুম হচ্ছে না। আগুনে তাঁদের টয়লেট, গোসলখানাও পুড়ে গেছে। প্রাকৃতিক কাজের জন্য তাঁদের রাতের ঘনকুয়াশা মাড়িয়ে দূরের পাহাড়ি জঙ্গলে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি তৈরির জন্য ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। সাময়িকভাবে তাঁদের বসবাসের জন্য তাঁবু ও ঘর তৈরি করা হবে। তত দিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে।

ডব্লিউএফপি কক্সবাজারের সিনিয়র ইমার্জেন্সি কো–অর্ডিনেটর শিলা গ্রুডেম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ২০০ রোহিঙ্গাকে প্রতিদিন দুই বেলা গরম খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এই পরিবারগুলোর জন্য ঘর পুনর্নির্মাণ, রান্নার গ্যাসসহ অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের খাবার সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন