default-image

নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় আরও পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই লঞ্চডুবির ঘটনায় শিশুসহ ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো।

আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভেসে উঠলে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তকাজ শুরু করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরী ববির নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

আজ যে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা হলেন মুন্সিগঞ্জ মালপাড়া এলাকার বিকাশ সাহার ছেলে অনিক সাহা (১২), একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে রিজভী (২০), সদরের ইসলামপুর এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে তানভীর হোসেন, মধ্য কোডপাড়া এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে ইউনুস কাজী ও রাজধানীর মিরপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সোহাগ হাওলাদার (২৩)।

বিজ্ঞাপন

ইউএনও নাহিদা বারিক প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার পাঁচটি লাশ পুরুষের। এ নিয়ে মোট ৭ শিশু, ১৩ পুরুষ ও ১৪ নারীর লাশ উদ্ধার করা হলো। লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি লাশ দাফনের জন্য সরকারিভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিখোঁজের তালিকায় স্বজনেরা ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করলেও পরবর্তী সময়ে দুজনকে (মো. জাকির ও জাকির হোসেন) জীবিত পাওয়া গেছে। এখন আর কেউ নিখোঁজ নেই। নদীতে নৌপুলিশ কাজ করছে। আরও লাশ রয়েছে কি না, তল্লাশি করে তা দেখা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারের পর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছিলেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কার্গো জাহাজটি আটকের চেষ্টা চলছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরী বলেন, তদন্ত কমিটি গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

গত রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি সাবিত আল হাসানকে শহরের কয়লাঘাট এলাকায় কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ থাকেন অনেকে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ দুটি তদন্ত কমিটি করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন