বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত রমজানের আগে বিদ্যালয়ের জায়গা দিয়ে একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এতে আবার ভাঙা পড়ে বিদ্যালয়টি। এবার পাকা ভবনের শুধু বারান্দাটুকু রক্ষা পায়। শ্রেণিকক্ষগুলো রাস্তার প্রয়োজনে ভাঙা পড়ে।

গত সোমবার দুপুরে এই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের আসন ও অন্যান্য আসবাব বরান্দায় জড়ো করে রাখা। মূল জায়গা থেকে স্থানান্তর করার কারণে বিদ্যালয়টির কোনো খেলার মাঠ ছিল না। সামনে ছোট উঠোনের মতো একটু জায়গা রয়েছে। গত দেড় বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে সেখানে আগাছা জন্মেছে। সামনের দিকে পানীয় জলের যে ট্যাপগুলো লাগানো ছিল, সেগুলো অচল।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন নতুন বিলসিমলা এলাকার বাসিন্দা এস এম আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি সেভাবে বাইরে বের হননি। এরই মধ্যে বিদ্যালয়টি ভাঙা হয়েছে। এটি জানতে পারার পরই তিনি প্রধান শিক্ষককে ডেকে বিদ্যালয়ের পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা করার জন্য বলেছেন।

মুঠোফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয়ের খোলার প্রস্তুতির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু বলতে পারেননি। বলেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সহকারী থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি এসে দেখে গেছেন। কীভাবে ভবিষ্যতে এই ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান করানো হবে জানতে চাইলে তিনি এক দিন পরে কথা বলতে চান।

ওই সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূর ইসলাম বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর পরিবর্তে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণও পেয়েছে।

বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ খান গত সোমবার বলেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণের ২৬ লাখ টাকা পাচ্ছেন। কিন্তু এই টাকা এখনো উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। টাকা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা করতেন। আপাতত ওই জায়গাতেই টিনের ছাউনি করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের একটা ব্যবস্থা করা হবে। তবে ওই সংকীর্ণ জায়গায় বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য খাসজমির জন্য আবেদন করেছেন।

গতকাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে জায়গা পরিমাপ করা হয়েছে। বরাদ্দর সঙ্গে মিলিয়ে নতুন ভবন করা হবে। তখন আর খেলার মাঠ থাকবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন