প্রত্যক্ষদর্শী অন্তত ১০ জন যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে লঞ্চগুলো কানায় কানায় যাত্রী পূর্ণ করে সদরঘাট নৌবন্দর ত্যাগ করে। কোনো লঞ্চই বিআইডব্লিউটিএর এই নির্দেশনা মানেনি। লঞ্চগুলো ছিল যাত্রীতে ঠাসা। প্রতিটি লঞ্চের ধারণক্ষমতা এক হাজারের ঊর্ধ্বে থাকলেও তারা দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে বরিশালে পৌঁছায়।

নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত একটায় প্রথম বরিশাল ঘাটে নোঙর করে রাজারহাট বি নামে একটি ভায়া লঞ্চ। এরপর রাত ১টা ২০ মিনিটে রয়্যাল ক্রুজ, আড়াইটায় পূবালী-৭, ৩টা ৯ মিনিটে ফারহান-৭ নোঙর করে। এরপর পর্যায়ক্রমে আসে এমভি মানামী, রেডসান, পারাবাত-১০, প্রিন্স আওলাদ-১০, কুয়াকাটা-২, সুন্দরবন-১১, সুরভী-৮, কীর্তনখোলা-১০ ও পারাবাত-১২।

পারাবাত-১০ লঞ্চে আসা যাত্রী আবির হোসেন বলেন, ‘সব কটি লঞ্চই ঢাকা ছাড়ার সময় ছিল যাত্রীতে ঠাসা। কিন্তু কিছু করার নেই। ভোগান্তি হয়েছে, তবু স্বস্তি যে বাড়িতে ফিরতে পেরেছি। কিন্তু সামনে দিন যত যাবে, ভিড় আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর নজরদারি থাকা উচিত। আনন্দ যাতে বিষাদে পরিণত না হয়, সেটার দিকে যাত্রী ও লঞ্চমালিক সবারই মনোযোগ দেওয়া উচিত।’

পূবালী-৭ লঞ্চের যাত্রী রেশমা বেগম বলেন, ‘লঞ্চে অনেক ভিড় ছিল। দম ফেলার মতো অবস্থা ছিল না। তবু হাজারো কষ্টের পর ঈদে বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে মিলতে পারব, এটাই আপাতত স্বস্তি। কারণ, দুই বছর করোনার কারণে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ হয়নি। তাই যাত্রাপথের কষ্ট-ভোগান্তি মনে করে সেই আনন্দ ম্লান করতে চাই না।’

কয়েকজন যাত্রী বলেন, আগামীকাল শনিবার থেকে নৌপথে ভিড় আরও বেড়ে যাবে। তখন যদি নৌযানগুলোকে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন থেকে বিরত না করা যায়, তবে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়বে। এ জন্য নৌবন্দরগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর নজরদারি কঠোর করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ও বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের বিশেষ সার্ভিসের প্রথম দিন ভায়াসহ প্রায় ২৩টি লঞ্চ ঢাকা থেকে বরিশাল এসেছে। প্রতি লঞ্চে ছিল গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার যাত্রী।

অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে না পারে, সে জন্য ঢাকা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। দরকার হলে ডাবল ট্রিপ দেবে। তবু অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। অতিরিক্ত যাত্রী নিলে সেসব লঞ্চকে জরিমানা গুনতে হবে। তবে প্রথম দিন লঞ্চগুলো কিছু অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ফিরলেও যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরছেন। আমরা সব সময় বন্দরে তদারকিতে ছিলাম।’

নৌবন্দর থেকে যাত্রী পরিবহনে ৩৫ বাস
ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বরিশাল নদীবন্দরের বাইরে যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন। গভীর রাতে যাত্রীদের যাতে ভোগান্তি না হয়, সে জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিনা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের জন্য ৩৫টি বাস দেওয়া হয়েছে। এসব বাস নদীবন্দর থেকে যাত্রীদের নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে। এ ছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তায় নদীবন্দর এলাকায় ৩২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, ঈদের ছুটিতে লঞ্চযোগে রাজধানী থেকে লাখ লাখ মানুষ বরিশালে আসছেন। সেই যাত্রীদের মধ্যরাতে যাতে ভোগান্তিতে না পড়তে হয়, সে জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ৩৫টি বাসের ব্যবস্থা করেছেন। এসব বাসে করে বরিশালের দুটি বাস টার্মিনালে যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন