বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুল হাদির মতো দেশের নানা প্রান্ত থেকে শতাধিক ব্যবসায়ী ছুটে এসেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। লালদীঘির পাড়ে বসেছে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা। তাঁরা এখন পণ্য সাজাচ্ছেন, দোকান বাঁধছেন। বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আবদুল জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা পাহাড়-সমুদ্রের নগর চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। ১৯০৯ সালে বকশীর হাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর যুবসমাজকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে বলীখেলার সূচনা করেছিলেন। এর পর থেকে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার মাঠসংকটের কারণে বলীখেলা হবে না বলে ঘোষণা এসেছিল। পরে আবার সিদ্ধান্ত বদল করে সিটি করপোরেশন। ১৬ এপ্রিল আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেন।

default-image

এই খেলা ঘিরে তিন দিনের মেলা বসে চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড় ও আশপাশের এলাকায়। লাখ লাখ মানুষ হাজির হয় খেলা দেখতে। মেলায় ঘুরে ঘুরে কেনে পছন্দের সব পণ্য। সামান্য আচ্ছাদন বা একদম খোলা আকাশের নিচে আকর্ষণীয় সব পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। মাটির তৈরি নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, লোহা ও কাঠের তৈরি নানা শোপিস, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিস, মৌসুমি ফলসহ কত কিছু থাকে মেলায়। আবার লোহার তৈরি হামান-দিস্তা, তাওয়া, খুন্তি, দা, ধামা, ছুরি, বঁটি ও কোদাল নিয়ে বসেন কামারেরা। কাঠমিস্ত্রিরা আসেন কারুকাজ করা পিঠার ছাঁচ, রুটি বেলার পিঁড়ি-বেলন, রেহেল, আসন ইত্যাদি নিয়ে।

মেলার পাড়ে কথা হয় মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রেতা গৌতম পালের সঙ্গে। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালী। পূর্বপুরুষও এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গৌতম জানালেন, গত দুই বছর এক ঘোরলাগা দুঃসময়ের মধ্যে কেটেছে তাঁর দিন। ব্যবসাপাতি বন্ধ ছিল। আয় ছিল না। কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়েছে।

আরেক বিক্রেতা নজরুল ইসলাম ১২ বছর ধরে মেলায় পণ্য নিয়ে আসছেন। তিনি জানালেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে মাটির তৈরি কাপ, প্লেট, মুখোশ, আয়না, জগ, সরাইসহ কমপক্ষে ১০০ রকমের পণ্য নিয়ে তিনি এসেছেন। এসব পণ্য সংগ্রহ করেন নানা জেলা থেকে।

আরেক বিক্রেতা মো. ইলিয়াছ এবার ৮ লাখ টাকার পণ্য নিয়ে এসেছেন। তিনি অবশ্য মাটির তৈরি কিছু আনেননি। তাঁর সব পণ্যই কাঠের তৈরি। রয়েছে ল্যাম্প, একতারা, ডুগডুগি, শোপিসসহ নানা পণ্য।

default-image

মেলা শুরু না হলেও পণ্য দেখতে ইতিমধ্যেই ভিড় করছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। বিকেলে এক দোকান থেকে মূর্তি কেনেন গার্মেন্টস কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এবার মেলা কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত মেলা ও বলীখেলা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

জানতে চাইলে বলীখেলা ও মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর জহুর লাল হাজারী প্রথম আলোকে বলেন, এবার প্রায় ১০০ বিক্রেতা মেলায় পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। মেলা চলবে তিন দিন। বলীখেলা চলবে এক দিন। সোমবার অনুষ্ঠেয় বলীখেলায় ১০০ জন বলী অংশ নেবেন।

বকশীর হাট-লালদীঘিগামী রাস্তা রোববার থেকে তিন দিন বন্ধ

এদিকে মেলা উপলক্ষে আন্দরকিল্লা মোড় (জামে মসজিদের সামনে) থেকে বকশীর হাট-লালদীঘিগামী রাস্তা বন্ধ থাকবে। শনিবার নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) শাহাদাত হুসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

শাহাদাত হুসেন প্রথম আলোকে জানান, রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিন লালদীঘি অভিমুখী সব যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। আন্দরকিল্লা মোড় (জামে মসজিদের সামনে) থেকে বকশীর হাট-লালদীঘিগামী রাস্তা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া জেলা পরিষদ মার্কেট থেকে টেরিবাজার-আন্দরকিল্লাগামী রাস্তা, সিনেমা প্যালেস থেকে কে সি দে রোড হয়ে সোনালী ব্যাংক পর্যন্ত রাস্তা, জহুর হকার্স, মহল মার্কেট থেকে বাটা ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তা, টেরিবাজার ফুলের দোকান থেকে টেরিবাজারগামী রাস্তা, আমানত শাহ মাজার রোডের মুখ থেকে টেরিবাজারগামী রাস্তা বন্ধ থাকবে।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেন আরও জানান, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের আসা-যাওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। টেরিবাজার, খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, চাক্তাইগামী সব ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি, বড় গাড়ি রাজাখালী দিয়ে প্রবেশ করে মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে বের হয়ে যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন