default-image

খুলনায় সরকারিভাবে একমাত্র কিডনি ডায়ালাইসিস যন্ত্র রয়েছে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে পানির পাম্প (মোটর) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ডায়ালাইসিস করা। আজ শনিবার সকাল থেকেই ডায়ালাইসিস বন্ধ ছিল। এতে বিপাকে পড়েছেন কিডনি রোগীরা।

এর আগে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ ছিল ডায়ালাইসিস। তখনো পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টটি (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয় নেফ্রোলজি বিভাগের আওতায়। ওই বিভাগের চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়ালাইসিসের সঙ্গে অনেকগুলো যন্ত্র ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো একটি যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটিই বন্ধ হয়ে যায়। কিডনি ডায়ালাইসিস করার সময় ওষুধের সঙ্গে প্রয়োজন হয় বিশুদ্ধ পানি। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টটির পাম্প নষ্ট হয়ে গেছে। ট্যাংকে যে পানি ছিল তা দিয়ে বৃহস্পতিবার বাকি রোগীদের ডায়ালাইসিস করা হয়েছে।

আজ সকালে পাম্পটি ঠিক করতে না পারায় সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে ডায়ালাইসিস। এতে বিপাকে পড়েছেন কিডনি রোগীরা। দূরদূরান্ত থেকে ডায়ালাইসিস করতে এসে সকাল থেকে বিভাগের সামনে বসে আছেন তাঁরা।

সকাল ৮টায় ডায়ালাইসিস করার জন্য শিডিউল দেওয়া হয়েছিল ৩৪ বছর বয়স্ক সরদার আজিমকে। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ওই বাসিন্দা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নেফ্রোলজি বিভাগের সামনে বসে ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার সময়ও তাঁর ডায়ালাইসিস করা হয়নি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কখন ডায়ালাইসিস করা হবে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। বলা হয়েছে পাম্প নষ্ট হয়েছে। মিস্ত্রিরা তা ঠিক করছেন। তিনি কিছুটা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কোনো যন্ত্র নষ্ট হলে তা শনিবারেও ঠিক হয় না, এটা কেমন কথা? আসলে রোগীদের তারা (কর্তৃপক্ষ) কোনো গুরুত্ব দেয় না।’

বিজ্ঞাপন

সরদার আজিমের মতো আরও অন্তত ২০ জনকে ওই বিভাগের সামনে নিজস্ব অ্যাপ্রোন পরে বসে থাকতে দেখা গেছে। ডায়ালাইসিস করার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা।

জানা গেছে, খুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিবার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে খরচ হয় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করা হয়। অন্যদিকে আবু নাসের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে খরচ হয় মাত্র ৪১৫ টাকা। এ কারণে রোগীদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল সেটি। ওই হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন ৭৫ থেকে ৮০ জন রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয়। খুলনা জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা ডায়ালাইসিস করতে সেখানে যান।

শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক মো. ইনামুল কবির দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ডায়ালাইসিস যন্ত্র সব ঠিক আছে। তবে পানির প্ল্যান্টের মোটর নষ্ট হয়ে গেছে। ট্যাংকে যে পানি ছিল তা দিয়ে বৃহস্পতিবার বাকি রোগীদের ডায়ালাইসিস করা হয়। ওই দিন থেকেই মিস্ত্রিরা মোটরটি ঠিক করার জন্য কাজ করছেন। মোটর ঠিক হলেই ডায়ালাইসিস শুরু করা যাবে। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে ৩০টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র আছে। অধিক সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই যন্ত্রগুলো সচল রাখতে হয়। এতে যন্ত্রের ওপর বেশি চাপ পড়ে। মাঝে মাঝে যন্ত্র নষ্ট হয়ে যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন