default-image

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামিদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটির রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি।

আজ বুধবার বিকেল চারটা পর্যন্ত যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলামসহ ৩৪ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ুন কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা, সাতক্ষীরা জজকোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল লতিফ, অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সামাদ, আইনজীবী নিজামউদ্দিন, কামরুন্নাহার, অহিদুজ্জামান, ফয়জুর রহমান চৌধুরী, আবদুল গফফার প্রমুখ। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন শাহানারা আক্তার বকুল, আবদুল মজিদ, মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম খান, এ বি এম সেলিম, অসীম কুমার মণ্ডল প্রমুখ।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শুনানি চলাকালে আদালতের কাঠগড়ায় ৩৪ আসামি উপস্থিত ছিলেন। মামলাটির রায় হবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখে সড়কপথে ঢাকায় ফিরছিলেন শেখ হাসিনা। পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া বিএনপি অফিসের সামনে তাঁর গাড়িবহরে হামলা হয়।

হামলাকারীরা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি করে ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এ সময় গাড়িবহরে থাকা ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওই হামলায় তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্তত ১২ জন দলীয় নেতা-কর্মী আহত হন।

ওই ঘটনায় একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেমউদ্দিন বাদী হয়ে যুবদল নেতা আশরাফ হোসেন, আবদুল কাদেরসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০-৭৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বিভিন্ন আদালত ঘুরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শফিকুর রহমান ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

হাবিবুলের ওপর হামলা

মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য সাতক্ষীরায় আসার পথে কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের সামনে আজ বুধবার সকালে সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় হাবিবুলের প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হাবিবুল ইসলাম কলারোয়া সদরের বাড়ি থেকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজিরা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের সামনে পৌঁছালে পৌরসভার গদখালী গ্রামের বিএনপির ৮-১০ জন নেতা-কর্মী অতর্কিত তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তিনি সামান্য আহত হন ও তাঁর প্রাইভেটকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হামলার পর তিনি আদালতে পৌঁছেছেন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পর হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবির জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ হামলা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ লিখিত কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলার বিএনপির সদস্য মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, হাবিবুল ইসলাম সাতক্ষীরা যাওয়ার পথে সাবেক ছাত্রদল নেতা রাজনের নেতৃত্বে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে তার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় হাবিবও সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাজন কলারোয়া পৌর মেয়র গাজী আক্তারুজ্জামানের সমর্থক।

গাজী আক্তারুজ্জামান পক্ষের সাবেক ছাত্রদল নেতা রুহল আমিন বলেন, হাবিবের কাজে অখুশি হয়ে তাঁর পক্ষের লোকজন হামলা চালিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা নিতে তাঁদের সমর্থকদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন