default-image

শেরপুরে গৃহবধূকে (৩৫) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক কাজিকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ওই ব্যক্তির নাম মো. নিজাম উদ্দিন (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের বিয়ে নিবন্ধক। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার গ্রামের বাড়ি থেকে সদর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ কাজি নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় মামলা করেন।

একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে নিজাম উদ্দিন তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শহরের নবীনগর আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় রেখে পালিয়ে যান। পরে ওই গৃহবধূ নিজাম উদ্দিনকে ফোন করলে তিনি বিয়ের কথা অস্বীকার করেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়। তাঁর একটি কন্যাসন্তানও আছে। নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজাম উদ্দিন মাঝেমধ্যে তাঁদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন। একপর্যায়ে তিনি ওই গৃহবধূকে সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি ওই গৃহবধূকে বিয়ের আশ্বাসও দেন। গত ১২ মার্চ নিজাম উদ্দিন বিয়ের কথা বলে ওই গৃহবধূকে শেরপুর শহরের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে ওই গৃহবধূকে বিয়ে করে ওই বাসায় রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে নিজাম উদ্দিন তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শহরের নবীনগর আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় রেখে পালিয়ে যান। পরে ওই গৃহবধূ নিজাম উদ্দিনকে ফোন করলে তিনি বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। উপায় না পেয়ে গৃহবধূ সোমবার নিজাম উদ্দিনকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগে সদর থানায় মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি নিশ্চিত করে আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার নিজাম উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজাম উদ্দিন ওই গৃহবধূকে বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তবে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। জেলা সদর হাসপাতালে গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন