উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি না হওয়ায় ঝিনাইগাতীর মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি হ্রাস পেয়েছে। ফলে ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর, কাংশা, ধানশাইল, হাতীবান্ধা ও মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন এবং শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ও সিঙ্গাবরুণা ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর থেকে পানি সরে গেছে। তবে কিছু কিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমে যাওয়ার পর গ্রামীণ সড়কগুলো জেগে উঠেছে। তবে ঢলের পানির প্রবল তোড়ে অধিকাংশ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খাতুনের ছেলে মো. আশরাফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানি তাঁর বাড়িঘরে উঠেছিল। তবে রোববার সকাল থেকে পানি কমছে। সরকার থেকে ত্রাণসহায়তা দেওয়ার জন্য আবেদন জানান তিনি।

এবারের পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের মহারশি নদ-সংলগ্ন রামেরকুড়া গ্রাম। এই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাহিদুল হক রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, সরকার থেকে যে পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাঁর ওয়ার্ডের ৩০০ পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে মাত্র ১০০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০০ পরিবার এখনো ত্রাণ পায়নি। এসব পরিবারকে দ্রুত ত্রাণসহায়তা দিতে হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতীবান্ধা ইউপির চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যায় তাঁর ইউনিয়নের ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ২০০ পরিবার ত্রাণ পেয়েছে। বাকি ৩০০ পরিবারের জন্য ত্রাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।
ঝিনাইগাতীর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ১ হাজার ৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় ১৮টি কাঁচা ও পাকা সড়ক এবং মহারশি নদের বাঁধের বিভিন্ন স্থানে দেড় কিলোমিটার অংশ ক্ষতি হয়েছে। ১৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ত্রাণসহায়তা হিসেবে ৭০ মেট্রিক টন খয়রাতি (জিআর) চাল, ৩ লাখ টাকা ও ১ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও ত্রাণের বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এদিকে ঢলের পানি উজানে কমে গেলেও রোববার সকাল থেকে শেরপুর সদর উপজেলার গাজীর খামার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে গাজীর খামার ইউপির চেয়ারম্যান আওলাদুল ইসলাম রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তাঁর ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের কয়েক শ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়বে। বর্তমানে কড়ইকান্দা-বালুঘাটা সড়কের ওপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

অপর দিকে নকলা উপজেলার উরফা ইউপির চেয়ারম্যান নুরে আলম তালুকদার বলেন, নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদের ঢলের পানি ভাটিতে নেমে আসায় তাঁর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তবে রোববার এসব গ্রাম থেকে পানি কিছুটা কমেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন