default-image

শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা মির্জাপুর এলাকার শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত আরও একজন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মামুন মিয়া (২৫)। তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাইগড়পাড়া গ্রামের মিস্টার আলীর ছেলে।

গতকাল রোববার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মামুন মিয়া। এতে ওই দুর্ঘটনায় মোট নিহত হলেন ছয়জন। গতকাল সকাল নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মামুন মিয়ার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।

দুর্ঘটনায় মামুনের মৃত্যুর পর অটোরিকশার সাত যাত্রীর মধ্যে একমাত্র সাত বছরের শিশু রুমিই জীবিত রয়েছে। সে দুর্ঘটনায় নিহত রোকসানা বেগমের মেয়ে। তার বাড়ি নালিতাবাড়ী উপজেলার নলজোড়া গ্রামে। দুর্ঘটনায় আহত রুমি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা উন্নতির দিকে।

বিজ্ঞাপন

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. খাইরুল কবির আজ সোমবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু রুমি একজন থ্যালাসেমিয়ার রোগী। শরীরে রক্ত দেওয়ার জন্য রুমি তার মা রোকসানা ও স্বজন মো. সেলিমের সঙ্গে শেরপুরে আসছিল। পথে দুর্ঘটনায় রোকসানা ও সেলিম নিহত হন। তবে শিশু রুমি বেঁচে যায়।

ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় নিহত রোকসানার স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ট্রাকচালককে আসামি করে গতকাল রাতে সদর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ট্রাকটিকে জব্দ করেছে। তবে ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল সকাল নয়টার দিকে নালিতাবাড়ীর নন্নী বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কয়েকজন যাত্রী শেরপুর জেলা শহরে আসছিলেন। শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কের সদর উপজেলার মির্জাপুরে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার তিন যাত্রী মারা যান। পরে এলাকাবাসী আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন