বিজ্ঞাপন

আজ শুক্রবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সুনসান নীরবতা। মাঠের বড় রেইনট্রিগাছের নিচে বসে আছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। না জেনে যেসব মুসল্লি শোলাকিয়া চলে আসেন নামাজ আদায় করতে, তাঁদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। স্থানীয় কয়েকজন খালি মাঠে বসে গল্প করছেন। ঈদের দিনের শোলাকিয়ার এ চিত্র বেমানান। আনোয়ার হোসেন ও শওকত আজিজ নামের স্থানীয় দুজন বলেন, কখনো চিন্তা করেননি শোলাকিয়ার জামাত ছাড়া অন্য কোথাও ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।

default-image

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ বছর শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম। জেলা প্রশাসক বলেন, এবার বড় জমায়েত পরিহার করতে সরকারি নির্দেশনা ছিল। তাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড় পরিসরে ও উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত হয়নি। শহরের বিভিন্ন মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে প্রতিবছরই ঈদ জামাতের একমাস আগে থেকেই শোলাকিয়া মাঠ নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা, মাঠের সংস্কার, শোভা বর্ধন ও রঙের কাজ হতো। এ বছর কোনো ধরনের সংস্কার কাজও হয়নি।

১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম ‘সোয়া লাখিয়া’, যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

বেশি সোয়াবের আশায় প্রতিবছর দূরদূরান্ত জেলাসহ দেশের বাইরে থেকে কয়েক লাখ মুসল্লি একসঙ্গে বড় জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য এখানে আসেন। মাঠ পূর্ণ হয়ে গেলে আশপাশের সড়ক ও বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন