ইদ্রিস মিয়া বলেন, যতই ঝড়, তুফান, বৃষ্টি থাকুক না কেন, তিনি এ মাঠে নামাজ আদায় করেন। মাঝে শুধু করোনা পরিস্থিতির কারণে নামাজ আদায় করতে পারেননি। তবে গত পবিত্র ঈদুল ফিতরে লাখো মুসল্লির সঙ্গে তিনি নামাজ আদায় করে শান্তি অনুভব করেন। এবার পবিত্র ঈদুল আজহায়ও নামাজ আদায় করে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

নামাজ শেষে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় হাজারো মুসল্লির ‘আল্লাহ আকবার’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় শোলাকিয়া ময়দান। করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতেও মোনাজাত করা হয়।

default-image

২০১৬ সালের ৭ জুলাইয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সকাল থেকেই ঈদগাহ ময়দানে দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্যসহ র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যদের তৎপরতা ছিল। ছয়টি ওয়াচ টাওয়ারসহ পুরো ঈদগাহ ময়দান সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। এ ছাড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য ছিল সার্বক্ষণিক ড্রোন ক্যামেরার ব্যবস্থা। ছিল ফায়ার ব্রিগেড, অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান বলেন, মুসল্লিদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এবারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম হলেও নিরাপত্তার কোনো কমতি ছিল না।

default-image

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম এখানে নামাজ আদায় শেষে বলেন, আবারও করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ করা হয়। এ ছাড়া দূরদূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা ছিল।

১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম ‘সোয়া লাখিয়া’, যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন মাঠের কাছে জঙ্গি হামলা ঘটনা ঘটে। এর দীর্ঘ সময় পর থেকে আবারও ঈদগাহ ময়দানের পরিবেশ স্বাভাবিক হয় এবং লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটে। তবে করোনা মহামারির কারণে দুই বছর (২০২০ ও ২০২১ সালে) পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন