শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ-কাষ্টসাগরা গ্রামে আজ শনিবার সকালে সোমা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূর লাশ আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর সোমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা ঢাকা দিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও সোমার মৃত্যুর বিচার চেয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরে লাশ নিয়ে মিছিল করেন তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন। বেলা দুইটায় তাঁরা লাশ নিয়ে শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন করে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করেন।
সোমার বাবা কালীগঞ্জ উপজেলার ফয়লা গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, তাঁর মেয়ে সোমাকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ-কাষ্টসাগরা গ্রামের আকিদুল ইসলামের ছেলে ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেন। চাঁদ আলী (১১) নামের তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ফরিদুল আগে বিদেশে ছিলেন। তিনি আবার বিদেশে যেতে ছোটাছুটি করছেন। এ কারণে তাঁর (নুর ইসলাম) কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এ টাকা তিনি দিতে পারেননি, এ কারণে তাঁর মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
নুর ইসলামের দাবি, শুক্রবার রাতে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর তাঁর মৃত্যু হলে গলায় ফাঁস দিয়ে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
সোমার ভাই সোহেল আহম্মেদ বলেন, শনিবার সকালে সোমার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা শ্বশুরবাড়ি কাষ্টসাগরা গ্রামে যান। সেখানে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাননি। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ নিচে নামিয়ে রেখেছে। তাঁরা যাওয়ার পর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁরা লাশ নিয়ে কালীগঞ্জে চলে এসেছেন। পরে তাঁরা লাশ নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মিঠু মালিতা বক্তৃতা করেন। পরে দাফনের জন্য তাঁর লাশ ফয়লা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
লাশের সুরতহাল তৈরির সঙ্গে যুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) দিবাকর মালাকার বলেন, তাঁরা অভিযোগ পেয়ে লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন। এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না মৃত্যুর কারণ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে সঠিক কারণটি বোঝা যাবে।