default-image

সুনামগঞ্জের ধরমপাশায় শ্মশানঘাট নির্মাণকে কেন্দ্রে করে হামলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজনকে আজ সোমবার ভোরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধরমপাশা থানার পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরে উত্তর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নতুনপাড়া ও পাথারিয়াকান্দা গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানের জন্য একটি শ্মশানঘাট নির্মাণের কাজ চলছে। মরদেহ দাহ করার গন্ধ ছড়ানোসহ নানা কারণ দেখিয়ে ওই শ্মশানঘাট নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন নোয়াগাঁও নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজিজুল ইসলাম। শ্মশানঘাট নির্মাণের জন্য সেখানে রাখা রড, বালু, ইট ও পাথর চুরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। গতকাল রাতে পাথারিয়াকান্দা গ্রামের রবি বর্মণ (৫০), অমল বর্মণ (২০), দীপ্ত বর্মণ (২০) ও সুবল বর্মণ (২০) শ্মশানঘাটের মালামাল পাহারার কাজে ছিলেন। দিবাগত রাত একটার দিকে তাঁদের ওপর পাঁচ থেকে ছয়জন হামলা করে। তাঁদের চিৎকার শুনে ওই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ওই চারজনকে সেখান থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

বিজ্ঞাপন

পাথারিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা অজিত বর্মণ (২০) অভিযোগ করেন, ‘আজিজুল মেম্বার খুবই ঝগড়াটে প্রকৃতির লোক। নানা অজুহাত দেখিয়ে তিনি শ্মশানঘাটের নির্মাণকাজ না করার জন্য বাধা দিয়ে আসছিলেন। তাঁর কথা না শোনায় আজিজুল তাঁর লোকজন নিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে তিনি আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (ধরমপাশা সার্কেল) সুজন চন্দ্র সরকার, ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শ্মশানঘাটের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান চেয়ারম্যান।

ধরমপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আহত ব্যক্তিরা শঙ্কামুক্ত। হামলার ঘটনায় জড়িত ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম পলাতক। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন