বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, চন্দননগর দরগাপাড়া এলাকায় লালমাটি পুকুর নামে একটি সরকারি পুকুর রয়েছে। বহু বছর ধরে স্থানীয় চন্দননগর দরগাপাড়া ও তাতিহার গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এই পুকুরের উত্তর পাড়ের প্রায় ৬০ শতাংশ জমি মহাশ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে সরকারি ওই পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান।

সম্প্রতি শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত পুকুরপাড় ও তৎসংলগ্ন জমির বেশ কিছু অংশ কেটে পুকুরে পরিণত করেন তিনি। বেশ কিছু কবরও পুকুরের মধ্যে চলে গেছে। এতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী মানুষ ওই শ্মশানে স্বজনদের মৃতদেহ সৎকার করতে গেলে সাবেক চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন তাঁদের বাধা দিয়ে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এসব মানুষ।

জ্যোতিশ সরেন বলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষেরা ওই জায়গা শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করেছে। আমরাও ছোটবেলা থেকে ওই জায়গাটিকে শ্মশান হিসেবে দেখে আসছি। হঠাৎ করে খালেকুজ্জামান প্রভাব খাটিয়ে শ্মশানের জায়টি দখল করে নিয়েছেন। থানায় অভিযোগ করায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন খালেকুজ্জামান ও তাঁর লোকজন।’

চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বলেন, খালেকুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরেই শ্মশানের জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে শ্মশানের জায়গার একটা বড় অংশ কেটে পুকুরে পরিণত করেন তিনি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়ে তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু খালেকুজ্জামান সালিসে বসতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি ওই অবস্থাতেই রয়েছে। বিষয়টির দ্রুত একটা সমাধান হওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে, সেটা শ্মশান নয়। ওই জায়গা খাস সম্পত্তি। কোনো দিনই ওই জায়গা কবরস্থান কিংবা শ্মশান ছিল না। শ্মশানের জায়গা হলে আমি কোনো দিনই জোবরদস্তি করতাম না। আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চন্দননগরের চেয়ারম্যান ছিলাম। কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না আমি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার নষ্ট করেছি।’

নিয়াতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (এসি ল্যান্ড) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন