প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে রমজাননগর ইউপির সাবেক সদস্য আবদুল বারীর সমর্থক নাদের আলীকে মারধর করেন বর্তমান ইউপি সদস্য আবদুল হামিদের লোকজন। ওই ঘটনার জেরে বিকেলে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বারীর কর্মী–সমর্থকেরা হামিদের লোকজনকে গালিগালাজ করেন। এ সময় দুই পক্ষ বাদানুবাদে জড়ালে মুহুর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, খবর পেয়ে হামিদের ছেলে মোখলেছুর রহমান, মেহেদি হাসান, ভাই আনিছুর রহমানসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মী–সমর্থক ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষে যোগ দেন। একপর্যায়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে সেখানে অবস্থানরত বারীর কয়েক সমর্থককে কুপিয়ে আহত করেন। খবর পেয়ে রায়নগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের শ্যামনগর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা আবদুল বারীর ভাতিজা ও টেংরাখালী গ্রামের আমির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আবদুল কাদের (৩৬) ও আবদুস সোবহান (৫০) নামের দুজনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে আবদুল হামিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ভাই পরিচয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, মেম্বরকে (হামিদ) মারতে বারী লোকজন নিয়ে এসেছিলেন। এ খবরে গ্রামবাসী বাইরে বের হয়ে বারীর লোকজনকে পিটিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন।

সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারী বলেন, বিনা উসকানিতে হামিদ মেম্বর ও তাঁর ছেলেদের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন বনদস্যুকে নিয়ে হামিদ হামলা করেন বলেও অভিযোগ করেন আবদুল বারী।

এ বিষয়ে রায়নগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারক বিশ্বাস বলেন, সংঘর্ষের খবরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন