বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ওই ব্যক্তি আরও একটি ধর্ষণ মামলার আসামি। ওই মামলায় তিনি জামিনে বের হয়ে এসেই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৮ মার্চ কুলিয়ারচরের একটি গ্রামের পুকুর থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর কুলিয়ারচর থানায় ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের পর কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ২৯ জুন কুলিয়াচর থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর ১ নভেম্বর ওই মামলা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পিবিআই সদস্যরা গত বুধবার বিকেলে ওই কিশোরীর দূরসম্পর্কের ওই দুলাভাইকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল ওই ব্যক্তিকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে নিয়ে যায় পিবিআই। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল বারী ওই ব্যক্তির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলার পরিদশর্ক মোহাম্মদ সাখরুল হক খান আদালতে ওই কিশোরীর ভগ্নিপতির দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলেন, লাশ উদ্ধারের আগের দিন ওই কিশোরীকে তাঁর দুলাভাই গ্রামের মেলায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে কিশোরী রাজি হলে রাতে মেলায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন তাঁরা। এরপর কিশোরীকে তার দুলাভাই মেলায় না নিয়ে একটি কলাবাগানের ভেতরে নিয়ে হাত–পা বেঁধে ধর্ষণ করেন।

প্রথমবার ধর্ষণ করার ২০ মিনিট পর আবার তিনি কিশোরীকে ধর্ষণ শুরু করেন। এ সময় ওই কিশোরী চিৎকার শুরু করলে তার দুলাভাই এক হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরী কোনো নড়াচড়া না করলে দুলাভাই বুঝতে পারেন ওই কিশোরী মারা গেছেন। পরে দুলাভাই কিশোরীর লাশ পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান।

মোহাম্মদ সাখরুল হক খান বলেন, তদন্তের সময় ওই কিশোরীর এক স্বজনের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে সন্দেহ জোরালো হয়। তাঁকে আটক করার পরই তিনি পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতেও একই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি আরও একটি ধর্ষণ মামলার আসামি। ওই মামলায় তিনি জামিনে বের হয়ে এসেই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন