default-image

সাবেক ডেপুটি স্পিকার মুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর কমান্ডার শওকত আলীকে তাঁর বাড়ি নড়িয়ার স্বাধীনতা ভবনে সমাহিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি দল সশস্ত্র সম্মান জানিয়ে ও বিউগলের করুণ সুরে তাঁকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শওকত আলীর মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার শরীয়তপুর জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছায়। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় নড়িয়ার বাসভবন স্বাধীনতা ভবনে। সেখানে পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগের নারী নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ রাখা হয় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের জনতা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। প্রিয় নেতাকে দেখতে হাজারো মানুষ শহীদ মিনারে জড়ো হন।

দুপুর দুইটার দিকে বিহারী লাল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শওকত আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানো হয়। বেলা পৌনে তিনটায় ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের কমান্ডার খন্দকার তৌহিদ মুরাদের নেতৃত্বে সেনা কর্মকর্তারা শওকত আলীর কফিন বহন করে মরদেহ কবরে নামান। এরপর নেতা-কর্মী ও স্বজনেরা তাঁকে শেষ বিদায় জানান।

শওকত আলী কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগও ছিল। এ কারণে ২২ অক্টোবর থেকে তিনি সিএমএইচে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় তিনি মারা যান।

বিজ্ঞাপন
default-image

শওকত আলী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় তিনি অবসরে যান। ১৯৭৭ সালে শওকত আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে শরীয়তপুর-২ আসন থেকে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর এই আসন থেকে আরও পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদে পান ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল, সেই মামলায় শওকত আলীও আসামি ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

শওকত আলীর জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নেন শরীয়তপুর ২ আসনের সাংসদ পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক, শরীয়তপুর-১ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন, জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান, পুলিশ সুপার এস এম আশ্রাফুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে প্রমুখ।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক বলেন, ‘শওকত আলী আমাদের রাজনীতির বটবৃক্ষ ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাঁর অনেক জনপ্রিয়তা ছিল।’

নড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি বরকত আলী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তিনি হুইলচেয়ারে করে প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে ছুটে আসেন। বরকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবককে হারালাম। তিনি বাংলাদেশ গঠনে যেমন জীবন বাজি রেখে লড়েছেন, তেমনি আওয়ামী লীগ গঠনেও আমৃত্যু কাজ করেছেন।’

মন্তব্য পড়ুন 0